নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া
নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) বর্তমান সাংগঠনিক প্রধান ভাগ্নে শহীদ ওরফে আনোয়ার আলম খোকাকে তৃতীয়বারের মতো তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার তাকে বগুড়া বিচার বিভাগীয় আদালতে হাজির করে পুলিশ সাত দিনের রিমান্ড চাইলে বিচারক মো. হাসানুজ্জামান তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এ নিয়ে তাকে তিন দফায় মোট ১১ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হলো।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বগুড়া গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মো. আবদুর রশীদ সরকার বলেন, গত তিন দিনের রিমান্ডে উল্লেখযোগ্য কোনো তথ্য না পাওয়ায় আবারও তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ভাগ্নে শহীদকে জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকায় নেওয়ার কথা রয়েছে। এ জন্য আবারও তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রথম দফায় অস্ত্র মামলায় বগুড়া গোয়েন্দা পুলিশ ১৪ জুলাই ভাগ্নে শহীদকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয়। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১৬ জুলাই বগুড়া থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ১৮ জুলাই আবারও ভাগ্নে শহীদকে বগুড়ায় নিয়ে আসা হয়। এরপর ১৯ জুলাই একই মামলায় দ্বিতীয় দফায় তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। গতকাল আবারও একই মামলায় আরো তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হলো। পুলিশ সদর দপ্তরের বিশেষ গোয়েন্দা শাখা ও বগুড়া জেলা পুলিশ ১২ জুলাই সন্ধ্যায় যৌথ অভিযান চালিয়ে বগুড়া-রংপুর বাইপাস সড়কের ছিলিমপুর এলাকায় যাত্রীবাহী বাস থেকে একটি পিস্তল ও তিনটি গুলিসহ ভাগ্নে শহীদকে গ্রেপ্তার করে।
কালিহাতীতে জঙ্গি সন্দেহে গ্রেপ্তার ৭
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানান, টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার পটল গ্রাম থেকে গতকাল জঙ্গি সন্দেহে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন গাইবান্ধার তুলসীঘাটের হাফেজ ইসমাইল, একই এলাকার নূরুন্নবী শেখ, হজরত আলী, গাইবান্ধার সাদুল্যাপুরের আবদুল করিম, দুর্গাপুরের আজিজুর রহমান, রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বসন্তপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম ও টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার পৌলী গ্রামের শাহাবুদ্দীন।
Showing posts with label বগুড়া. Show all posts
Showing posts with label বগুড়া. Show all posts
22 July 2010
পাবনায় জামায়াতের ৫ নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার
পাবনা প্রতিনিধি
পাবনা সদর উপজেলা আমিরসহ পাঁচ জামায়াত নেতা-কর্মীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। বৃহস্পতিবার সকালে শহরের জেল গেট এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, ঈশ্বরদী থানার একটি হত্যা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সদর থানা পুলিশ ঈশ্বরদী পুলিশের সহযোগিতায় তাদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো_পাবনা সদর উপজেলা জামায়াতের আমির আবদুল গাফফার খান, জামায়াত কর্মী জুবায়ের, আশরাফুল ইসলাম, মাহমুদ আলী ও ওমর আলী। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলাপকালে ঈশ্বরদী থানার ওসি সামিউল আলম জানান, চলতি বছরের ৯ জুন পাকশী মেরিন পাড়া এলাকায় অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবক খুন হয়। এ হত্যা মামলায় পুলিশ বুধবার সকালে তাদের গ্রেপ্তার করে। অপরদিকে জামায়াত নেতারা অভিযোগ করেছেন, গ্রেপ্তার হওয়া আবদুল গাফফার খান কারাবন্দি ছিলেন।
পাবনা সদর উপজেলা আমিরসহ পাঁচ জামায়াত নেতা-কর্মীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। বৃহস্পতিবার সকালে শহরের জেল গেট এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, ঈশ্বরদী থানার একটি হত্যা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সদর থানা পুলিশ ঈশ্বরদী পুলিশের সহযোগিতায় তাদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো_পাবনা সদর উপজেলা জামায়াতের আমির আবদুল গাফফার খান, জামায়াত কর্মী জুবায়ের, আশরাফুল ইসলাম, মাহমুদ আলী ও ওমর আলী। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলাপকালে ঈশ্বরদী থানার ওসি সামিউল আলম জানান, চলতি বছরের ৯ জুন পাকশী মেরিন পাড়া এলাকায় অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবক খুন হয়। এ হত্যা মামলায় পুলিশ বুধবার সকালে তাদের গ্রেপ্তার করে। অপরদিকে জামায়াত নেতারা অভিযোগ করেছেন, গ্রেপ্তার হওয়া আবদুল গাফফার খান কারাবন্দি ছিলেন।
17 July 2010
বগুড়া পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ভাগ্নে শহীদ : জেএমবি ১০ বছরের সাংগঠনিক পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছে
নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া ও বাগমারা (রাজশাহী) প্রতিনিধি | তারিখ: ১৭-০৭-২০১০
১০ বছরের সাংগঠনিক পরিকল্পনা নিয়ে তাঁরা মাঠে নেমেছেন। ওই পরিকল্পনায় নতুন সদস্য সংগ্রহ এবং জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ—জেএমবির ভেঙে পড়া সাংগঠনিক কমান্ড পুনর্গঠনের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তাঁরা একটি রাজনৈতিক দলের কাছে সহায়তা চেয়েছিলেন। কিন্তু কৌশলগত কারণে দলটি তাঁদের ফিরিয়ে দেয়। জেএমবির ভারপ্রাপ্ত আমির আনোয়ার আলম ওরফে ভাগ্নে শহীদ বগুড়ায় রিমান্ড চলাকালে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য জানান।
জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে পুলিশ সূত্র জানায়, শায়খ আবদুর রহমান, বাংলা ভাইসহ জেএমবির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার পর মাওলানা সাইদুর রহমান দীর্ঘমেয়াদি একটি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করেন। তাঁর গ্রেপ্তারের পর ভাগ্নে শহীদও একই পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে থাকেন। এ জন্য তাঁরা একটি রাজনৈতিক দলের কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন। কিন্তু কৌশলগত কারণে দলটি তাঁদের ফিরিয়ে দেয়।
বগুড়ার পুলিশ সুপার (এসপি) হুমায়ুন কবির বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে ভাগ্নে শহীদের দেওয়া তথ্য যাচাই করে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ভাগ্নে শহীদকে গত সোমবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে তিনটি গুলিসহ একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে একটি মামলা হয়েছে। এ মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গত বুধবার তাঁকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বগুড়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক আবদুর রশিদ জানান, জিজ্ঞাসাবাদের প্রথম দিনে ভাগ্নে শহীদ গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য দিলেও এখন আর মুখ খুলছেন না তিনি। এসএসসি পাস ভাগ্নে শহীদ ইসলামি ও জিহাদি বই ছাড়াও প্রচুর বই পড়েছে।
এসপি হুমায়ুন কবির জানান, ভাগ্নে শহীদের বিরুদ্ধে কতগুলো মামলা রয়েছে, তা জানার জন্য সারা দেশের থানাগুলোতে জরুরি বেতার বার্তা পাঠানো হয়েছে। তিনি জানান, ময়মনসিংহে সিনেমা হলে বোমা বিস্ফোরণ মামলাসহ সেখানে তাঁর বিরুদ্ধে চারটি মামলার তথ্য জানা গেছে। মামলাগুলো ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন।
এসপি আরও জানান, দলের সাংগঠনিক প্রধানের দায়িত্ব পাওয়ার পর ভাগ্নে শহীদ সব নেতাকে কিছুদিন আত্মগোপনে থেকে জনগণের সঙ্গে মিশে সদস্য সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এরপর তিনি নিজেও আত্মগোপনের জন্য ঢাকায় চলে যান। কিছুদিন এক আত্মীয়র বাড়িতে আত্মগোপন করে থাকেন তিনি। সেখান থেকে দিনাজপুর ফেরার পথে ভাগ্নে শহীদ বগুড়ায় গ্রেপ্তার হন।
বাগমারার মূর্তিমান আতঙ্ক ভাগ্নে শহীদ: ‘ভাগ্নে শহীদ, কিলার মোস্তাকসহ অন্য জঙ্গিরা আমাকে বাড়ি থেকে ধরে টর্চার সেলে (নির্যাতনকেন্দ্র) নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে আমার পায়ে পেরেক ঢুকিয়ে নির্যাতন চালায় শহীদ। আমার হাতের সব আঙুল থেঁতলে দেওয়া হয়। আমি তাঁর পায়ে ধরে বলি, স্যার, আমি সর্বহারা নই, কেউ আপনাদের মিথ্যা তথ্য দিয়েছে। কিন্তু তার পরও আমাকে রেহাই দেয়নি শহীদ।’ কাঁদতে কাঁদতে এভাবেই ভাগ্নে শহীদের নির্যাতনের বর্ণনা দিলেন রাজশাহীর বাগমারার হাসানপুরের ফজলুর রহমান।
এলাকাবাসী জানান, ভাগ্নে শহীদ বাগমারায় ছিলেন মূর্তিমান আতঙ্ক। তাঁর গ্রেপ্তারের খবরে ওই এলাকার মানুষের মধ্যে স্বস্তি নেমে আসে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভাগ্নে শহীদ সব সময় বাংলা ভাইয়ের সঙ্গে থাকতেন। তাঁদের মতে, জঙ্গি আতাউর রহমান সানি ও জামাই আবদুল আওয়ালের চেয়েও বেশি ভয়ংকর ছিলেন ভাগ্নে শহীদ।
আবদুস সালাম নামের নির্যাতিত এক ব্যক্তি বলেন, শহীদের নেতৃত্বে হামিরকুৎসা নির্যাতনকেন্দ্রে তাঁর ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে।
কালুপাড়ার রফিকুল ইসলাম বলেন, ভাগ্নে শহীদের নেতৃত্বে তাঁকে বাড়ি থেকে অপহরণ করা হয়। টর্চার সেলে নিয়ে ভাগ্নে শহীদ তাঁর ওপর অমানবিক নির্যাতন চালান। নির্যাতন চালিয়ে তাঁকে পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, বাংলা ভাই বাগমারা থেকে চলে যাওয়ার পর শহীদ দলের হাল ধরেন। এলাকার ক্যাডারদের সঙ্গে তিনিই নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করতেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, জেএমবি নিষিদ্ধ হওয়ার পরও শহীদের বাগমারায় যাতায়াত ছিল। ১৭ আগস্ট দেশব্যাপী বোমা হামলার আগে বাগমারায় যে গোপন বৈঠক হয়েছিল, তার নেতৃত্বে ছিলেন শহীদ। তাঁরা এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনও তাঁদের দপ্তরে পাঠিয়েছিলেন।
বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুণ অর রশিদ জানান, ওই সময় ভাগ্নে শহীদের কী ধরনের তৎপরতা ছিল, তা তাঁর জানা নেই। কারণ তিনি ওই সময় এ থানায় ছিলেন না। তবে ভাগ্নে শহীদের নামে থানায় কোনো মামলা বা অভিযোগ রয়েছে কি না, তা খোঁজ করে দেখা হচ্ছে।
১০ বছরের সাংগঠনিক পরিকল্পনা নিয়ে তাঁরা মাঠে নেমেছেন। ওই পরিকল্পনায় নতুন সদস্য সংগ্রহ এবং জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ—জেএমবির ভেঙে পড়া সাংগঠনিক কমান্ড পুনর্গঠনের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তাঁরা একটি রাজনৈতিক দলের কাছে সহায়তা চেয়েছিলেন। কিন্তু কৌশলগত কারণে দলটি তাঁদের ফিরিয়ে দেয়। জেএমবির ভারপ্রাপ্ত আমির আনোয়ার আলম ওরফে ভাগ্নে শহীদ বগুড়ায় রিমান্ড চলাকালে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য জানান।
জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে পুলিশ সূত্র জানায়, শায়খ আবদুর রহমান, বাংলা ভাইসহ জেএমবির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার পর মাওলানা সাইদুর রহমান দীর্ঘমেয়াদি একটি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করেন। তাঁর গ্রেপ্তারের পর ভাগ্নে শহীদও একই পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে থাকেন। এ জন্য তাঁরা একটি রাজনৈতিক দলের কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন। কিন্তু কৌশলগত কারণে দলটি তাঁদের ফিরিয়ে দেয়।
বগুড়ার পুলিশ সুপার (এসপি) হুমায়ুন কবির বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে ভাগ্নে শহীদের দেওয়া তথ্য যাচাই করে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ভাগ্নে শহীদকে গত সোমবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে তিনটি গুলিসহ একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে একটি মামলা হয়েছে। এ মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গত বুধবার তাঁকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বগুড়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক আবদুর রশিদ জানান, জিজ্ঞাসাবাদের প্রথম দিনে ভাগ্নে শহীদ গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য দিলেও এখন আর মুখ খুলছেন না তিনি। এসএসসি পাস ভাগ্নে শহীদ ইসলামি ও জিহাদি বই ছাড়াও প্রচুর বই পড়েছে।
এসপি হুমায়ুন কবির জানান, ভাগ্নে শহীদের বিরুদ্ধে কতগুলো মামলা রয়েছে, তা জানার জন্য সারা দেশের থানাগুলোতে জরুরি বেতার বার্তা পাঠানো হয়েছে। তিনি জানান, ময়মনসিংহে সিনেমা হলে বোমা বিস্ফোরণ মামলাসহ সেখানে তাঁর বিরুদ্ধে চারটি মামলার তথ্য জানা গেছে। মামলাগুলো ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন।
এসপি আরও জানান, দলের সাংগঠনিক প্রধানের দায়িত্ব পাওয়ার পর ভাগ্নে শহীদ সব নেতাকে কিছুদিন আত্মগোপনে থেকে জনগণের সঙ্গে মিশে সদস্য সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এরপর তিনি নিজেও আত্মগোপনের জন্য ঢাকায় চলে যান। কিছুদিন এক আত্মীয়র বাড়িতে আত্মগোপন করে থাকেন তিনি। সেখান থেকে দিনাজপুর ফেরার পথে ভাগ্নে শহীদ বগুড়ায় গ্রেপ্তার হন।
বাগমারার মূর্তিমান আতঙ্ক ভাগ্নে শহীদ: ‘ভাগ্নে শহীদ, কিলার মোস্তাকসহ অন্য জঙ্গিরা আমাকে বাড়ি থেকে ধরে টর্চার সেলে (নির্যাতনকেন্দ্র) নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে আমার পায়ে পেরেক ঢুকিয়ে নির্যাতন চালায় শহীদ। আমার হাতের সব আঙুল থেঁতলে দেওয়া হয়। আমি তাঁর পায়ে ধরে বলি, স্যার, আমি সর্বহারা নই, কেউ আপনাদের মিথ্যা তথ্য দিয়েছে। কিন্তু তার পরও আমাকে রেহাই দেয়নি শহীদ।’ কাঁদতে কাঁদতে এভাবেই ভাগ্নে শহীদের নির্যাতনের বর্ণনা দিলেন রাজশাহীর বাগমারার হাসানপুরের ফজলুর রহমান।
এলাকাবাসী জানান, ভাগ্নে শহীদ বাগমারায় ছিলেন মূর্তিমান আতঙ্ক। তাঁর গ্রেপ্তারের খবরে ওই এলাকার মানুষের মধ্যে স্বস্তি নেমে আসে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভাগ্নে শহীদ সব সময় বাংলা ভাইয়ের সঙ্গে থাকতেন। তাঁদের মতে, জঙ্গি আতাউর রহমান সানি ও জামাই আবদুল আওয়ালের চেয়েও বেশি ভয়ংকর ছিলেন ভাগ্নে শহীদ।
আবদুস সালাম নামের নির্যাতিত এক ব্যক্তি বলেন, শহীদের নেতৃত্বে হামিরকুৎসা নির্যাতনকেন্দ্রে তাঁর ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে।
কালুপাড়ার রফিকুল ইসলাম বলেন, ভাগ্নে শহীদের নেতৃত্বে তাঁকে বাড়ি থেকে অপহরণ করা হয়। টর্চার সেলে নিয়ে ভাগ্নে শহীদ তাঁর ওপর অমানবিক নির্যাতন চালান। নির্যাতন চালিয়ে তাঁকে পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, বাংলা ভাই বাগমারা থেকে চলে যাওয়ার পর শহীদ দলের হাল ধরেন। এলাকার ক্যাডারদের সঙ্গে তিনিই নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করতেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, জেএমবি নিষিদ্ধ হওয়ার পরও শহীদের বাগমারায় যাতায়াত ছিল। ১৭ আগস্ট দেশব্যাপী বোমা হামলার আগে বাগমারায় যে গোপন বৈঠক হয়েছিল, তার নেতৃত্বে ছিলেন শহীদ। তাঁরা এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনও তাঁদের দপ্তরে পাঠিয়েছিলেন।
বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুণ অর রশিদ জানান, ওই সময় ভাগ্নে শহীদের কী ধরনের তৎপরতা ছিল, তা তাঁর জানা নেই। কারণ তিনি ওই সময় এ থানায় ছিলেন না। তবে ভাগ্নে শহীদের নামে থানায় কোনো মামলা বা অভিযোগ রয়েছে কি না, তা খোঁজ করে দেখা হচ্ছে।
16 July 2010
নির্বাচনে সারা দেশে নাশকতার পরিকল্পনা করেছিল জেএমবি, বোমা তৈরির দায়িত্ব ছিল শহীদের ওপর
নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া ও গাইবান্ধা প্রতিনিধি
বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারা দেশে একযোগে বোমা হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেছিল নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামা'আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি)। এই 'মিশন' সফল করতে জেএমবির 'স্পেশাল কমান্ডো' হিসেবে পরিচিত বর্তমান সাংগঠনিক প্রধান আনোয়ার আলম খোকা ওরফে ভাগ্নে শহীদকে এক হাজার শক্তিশালী বোমা তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। বোমা তৈরির জন্য নিরাপদ এবং উপযুক্ত স্থান হিসেবে তারা বেছে নিয়েছিল বগুড়া জেলাকে। কিন্তু দলের কয়েকজন বিশ্বাসঘাতকতা করায় শেষ পর্যন্ত ওই পরিকল্পনা বাতিল করা হয়। বগুড়ায় গ্রেপ্তার করা ভাগ্নে শহীদ জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে এসব তথ্য জানিয়ে বলেছে, তাদের বোমা হামলার ধরন হতো আফগানিস্তানের মতো। ইসলাম মানে না এমন মানুষই হতো তাদের মূল লক্ষ্য।
পুলিশ সুপার জানান, জেএমবির আমির (বর্তমানে কারাগারে) মাওলানা সাইদুরের নির্দেশে শহীদ বগুড়া শহরের উপশহর এলাকায় একটি বাড়ি ভাড়া করে। সেখানে চার সহযোগীকে নিয়ে থাকত সে। এক হাজার শক্তিশালী বোমা তৈরির জন্য উচ্চক্ষমতার বিস্ফোরক, ডেটোনেটরসহ নানা সরঞ্জাম তারা বগুড়া শহরের ওই বাড়িতে জড়ো করেছিল। বেশ কিছু বোমা তৈরিও করেছিল। কিন্তু মাওলানা সাইদুরের নির্দেশেই আবার হামলার পরিকল্পনা স্থগিত করা হয়। রাজশাহী, দিনাজপুর, জয়পুরহাট ও বগুড়া জেলার দায়িত্বে থাকা দলের চার সদস্য বিশ্বাসঘাতকতা করায় ওই মুহূর্তে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা নিরাপদ হবে বলে মনে করেনি সে।
জিজ্ঞাসাবাদে ভাগ্নে শহীদ পুলিশকে জানিয়েছে, তাদের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সারা দেশে অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ মারা যেত। তাদের প্রধান টার্গেটে ছিল বিভিন্ন এনজিও ও সরকারি প্রতিষ্ঠান। আর সরকারি দপ্তরে হামলা পরিকল্পনার উদ্দেশ্য ছিল সরকারকে বেকায়দায় ফেলা। বগুড়ার পুলিশ সুপার জানান, ভাগ্নে শহীদ রিমান্ডে এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও ব্যক্তির নাম দিয়েছে, যা তদন্ত শেষ হওয়ার আগে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। এদিকে আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করলেও স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিলম্বের কারণে গাইবান্ধায় পাঁচ জেএমবি সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেনি পুলিশ। জেএমবি সদস্য শফিকুল ইসলাম ওরফে জামাই রফিক ওরফে হাসান, গিয়াস উদ্দিন ওরফে রাসেল, শাকিল, আব্দুল মজিদ ও আনোয়ার হোসেন ওরফে আর্মি আনোয়ারকে বুধবার বিকেলে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করলেও বিধান অনুযায়ী স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর তাদের জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন। গাইবান্ধার সিভিল সার্জন ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে তাদের আবার হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে পৌনে ১২টার মধ্যে তাদের সার্টিফিকেট দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।
বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারা দেশে একযোগে বোমা হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেছিল নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামা'আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি)। এই 'মিশন' সফল করতে জেএমবির 'স্পেশাল কমান্ডো' হিসেবে পরিচিত বর্তমান সাংগঠনিক প্রধান আনোয়ার আলম খোকা ওরফে ভাগ্নে শহীদকে এক হাজার শক্তিশালী বোমা তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। বোমা তৈরির জন্য নিরাপদ এবং উপযুক্ত স্থান হিসেবে তারা বেছে নিয়েছিল বগুড়া জেলাকে। কিন্তু দলের কয়েকজন বিশ্বাসঘাতকতা করায় শেষ পর্যন্ত ওই পরিকল্পনা বাতিল করা হয়। বগুড়ায় গ্রেপ্তার করা ভাগ্নে শহীদ জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে এসব তথ্য জানিয়ে বলেছে, তাদের বোমা হামলার ধরন হতো আফগানিস্তানের মতো। ইসলাম মানে না এমন মানুষই হতো তাদের মূল লক্ষ্য।
পুলিশ সুপার জানান, জেএমবির আমির (বর্তমানে কারাগারে) মাওলানা সাইদুরের নির্দেশে শহীদ বগুড়া শহরের উপশহর এলাকায় একটি বাড়ি ভাড়া করে। সেখানে চার সহযোগীকে নিয়ে থাকত সে। এক হাজার শক্তিশালী বোমা তৈরির জন্য উচ্চক্ষমতার বিস্ফোরক, ডেটোনেটরসহ নানা সরঞ্জাম তারা বগুড়া শহরের ওই বাড়িতে জড়ো করেছিল। বেশ কিছু বোমা তৈরিও করেছিল। কিন্তু মাওলানা সাইদুরের নির্দেশেই আবার হামলার পরিকল্পনা স্থগিত করা হয়। রাজশাহী, দিনাজপুর, জয়পুরহাট ও বগুড়া জেলার দায়িত্বে থাকা দলের চার সদস্য বিশ্বাসঘাতকতা করায় ওই মুহূর্তে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা নিরাপদ হবে বলে মনে করেনি সে।
জিজ্ঞাসাবাদে ভাগ্নে শহীদ পুলিশকে জানিয়েছে, তাদের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সারা দেশে অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ মারা যেত। তাদের প্রধান টার্গেটে ছিল বিভিন্ন এনজিও ও সরকারি প্রতিষ্ঠান। আর সরকারি দপ্তরে হামলা পরিকল্পনার উদ্দেশ্য ছিল সরকারকে বেকায়দায় ফেলা। বগুড়ার পুলিশ সুপার জানান, ভাগ্নে শহীদ রিমান্ডে এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও ব্যক্তির নাম দিয়েছে, যা তদন্ত শেষ হওয়ার আগে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। এদিকে আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করলেও স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিলম্বের কারণে গাইবান্ধায় পাঁচ জেএমবি সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেনি পুলিশ। জেএমবি সদস্য শফিকুল ইসলাম ওরফে জামাই রফিক ওরফে হাসান, গিয়াস উদ্দিন ওরফে রাসেল, শাকিল, আব্দুল মজিদ ও আনোয়ার হোসেন ওরফে আর্মি আনোয়ারকে বুধবার বিকেলে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করলেও বিধান অনুযায়ী স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর তাদের জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন। গাইবান্ধার সিভিল সার্জন ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে তাদের আবার হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে পৌনে ১২টার মধ্যে তাদের সার্টিফিকেট দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।
15 July 2010
জিজ্ঞাসাবাদে ভাগ্নে শহীদ: একটি দলের সহযোগিতা নিতে চাইছিল জেএমবি
বগুড়া অফিস
জেএমবির বর্তমান সাংগঠনিক প্রধান আনোয়ার আলম খোকা ওরফে ভাগ্নে শহীদের নেতৃত্বে সংগঠনের সদস্যরা দেশে বড় ধরনের নাশকতা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া ভাগ্নে শহীদ জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, নাশকতা চালাতে তারা একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা নেওয়ার চেষ্টা করছিল। কিন্তু সমপ্রতি ওই দলটি সরকারের টার্গেটে পড়ে যাওয়ায় তারা সরাসরি জেএমবিকে সহযোগিতা করতে চায়নি। এ কারণে জেএমবি হামলা চালানোর জন্য কিছুটা দেরি করার সিদ্ধান্ত নেয়।
বগুড়ার পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবির গতকাল বুধবার কালের কণ্ঠকে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, 'জেএমবি দেশের ১২ জন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির 'হিটলিস্ট' তৈরি করেছিল। ভাগ্নে শহীদ লিস্টের সবার নাম প্রকাশ করেছে। তালিকার সবাই রাষ্ট্র পরিচালনার সঙ্গে সমপৃক্ত। জেএমবির পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে দেশে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসত।'
কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ভাগ্নে শহীদকে গতকাল বগুড়ার মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতে পাঠানো হয়। পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানালে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগেই শহীদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও গুলি রাখার অভিযোগে অস্ত্র আইনে বগুড়া সদর থানায় একটি মামলা করে পুলিশ। জামাই রফিকসহ ভাগ্নে শহীদের অন্য পাঁচ সহযোগীকে গাইবান্ধার আদালতে পাঠিয়ে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। ওই পাঁচজনের বিরুদ্ধে নাশকতা সৃষ্টি ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থানায় দুটি মামলা হয়েছে। আদালত জঙ্গিদের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করার পর পুলিশ ও জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলের কর্মকর্তারা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছেন।
বগুড়ার পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবির কালের কণ্ঠকে বলেন, 'ভাগ্নে শহীদ জানিয়েছে, জেএমবির সাবেক আমির শায়খ আব্দুর রহমানের সময় তৈরি করা ১০ বছরের কর্মপরিকল্পনা অনুসারে তারা কার্যক্রম চালাচ্ছিল। দলে একজনের অনুপস্থিতিতে বা কারো মৃত্যু হলে তৈরি হয় নতুন নেতৃত্ব। কিন্তু কাজ চলে পুরনো পরিকল্পনা অনুসারে। সমপ্রতি পুলিশের অভিযান জোরদার হওয়ায় জেএমবির শীর্ষ নেতারা ছদ্মবেশে বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান করে নতুন সদস্য তৈরির কাজে নামে। গ্রামের লোকজনকে দলে ভেড়ানোর জন্য মাঠে নামে তারা। দুর্গম এলাকাগুলোতে আস্তানা করে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পেঁৗছানোই ছিল তাদের টার্গেট।'
পুলিশ সুপার জানান, জিজ্ঞাসাবাদে ভাগ্নে শহীদ বলেছে, সে কখনো নিজে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে না। অন্যের ফোন ব্যবহার করে সাংকেতিক ভাষায় তারা পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ করে। জেএমবির আমির সাইদুর গ্রেপ্তার হওয়ার পর ঢাকা থেকে তার কাছে মোবাইলে মেসেজ আসে, হুজুর অসুস্থ। সব কর্মকাণ্ড বন্ধ। মোবাইলের সিম বন্ধ করে দাও। পরে কথা হবে। ওই মেসেজ পর্যায়ক্রমে সবার কাছে পেঁৗছে যায়।
ভাগ্নে শহীদ নিজেকে এসএসসি পাস বলে দাবি করলেও পুলিশ জানিয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন সম্পর্কে তার ভালো ধারণা রয়েছে। সে ভারতসহ কয়েকটি দেশে কমান্ডো ট্রেনিং নিয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়ার আগে শহীদ দিনাজপুর থেকে ঢাকায় গিয়ে এক সপ্তাহ এক আত্দীয়ের বাড়িতে ছিল। সেই আত্দীয় সরকারের একটি বিশেষ বাহিনীতে কর্মরত। তার ব্যাপারে খোঁজ-খবর নেওয়া শুরু হয়েছে।
জামাই রফিকও ছিল মোস্ট ওয়ান্টেড
ভাগ্নে শহীদের মতো পুলিশের তালিকায় মোস্ট ওয়ান্টেড হিসেবে ছিল জামাই রফিকের নাম। জেএমবির রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বে ছিল রফিক। উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় ছদ্মবেশে সে অবস্থান করেছে দিনের পর দিন। জিজ্ঞাসাবাদে রফিক জানায়, ফেরিওয়ালা বা রিকশাওয়ালা সেজে সে পুলিশের সামনে দিয়েই ঘুরেছে।
জামাই রফিক ওরফে হাসান (২৮) এবং জেএমবির গাইবান্ধা জেলার প্রধান জয়পুরহাট জেলার সদর উপজেলার গিয়াস ওরফে রাসেল (২৫) সম্পর্কে ভায়রা ভাই। তারা দুজন প্রেম করে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রাখালবুরুজ ইউনিয়নের আয়শা সিদ্দিকা ও সুমি বেগমকে বিয়ে করে। আয়শা ও সুমি মামাতো-ফুফাতো বোন। সেই সূত্রে রফিক ও গিয়াস প্রায় এক মাস আগে জামাই হিসেবে পৌরসভার প্রধান পাড়ায় রাজা মাস্টারের বাড়ি ১১ শ টাকায় ভাড়া নেয়। আয়শা ও সুমি বাসা ভাড়া নেওয়ার সময় বাড়িওয়ালাকে জানায়, তাদের স্বামীরা ওষুধ কম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি।
বাসার মালিক রাজা মিয়ার স্ত্রী লাইজু বেগম কালের কণ্ঠকে জানান, তিনি কখনো ভাড়াটিয়া মহিলাদের মুখ দেখতে পাননি। সব সময় তারা বোরকায় মুখ ঢেকে বাড়ির বাইরে ও ঘরের মধ্যে চলাফেরা করত। তাদের স্বামীরা প্রতিদিন ভোরে বাসা থেকে বেরিয়ে গিয়ে গভীর রাতে ফিরত। পুলিশ গত মঙ্গলবার রাতে ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বোমা তৈরির সরঞ্জাম, ধারালো অস্ত্র ও জিহাদি বই উদ্ধার করে। তবে অভিযানের সময় রফিকের স্ত্রী আয়শা এবং রাসেলের স্ত্রী সুমি পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
আমাদের গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, জামাই রফিকসহ গাইবান্ধা থেকে আটক পাঁচ জেএমবি জঙ্গিকে গতকাল বুধবার সিনিয়র বিচারিক হাকিম আজিজুর রহমানের আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাদের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। জামাই রফিক ছাড়া অন্য চার জঙ্গি হলো_গিয়াস উদ্দিন ওরফে রাসেল (২৫), এহসার সদস্য শাকিল (২২), আব্দুল মজিদ (৫০) ও সাবেক সেনা সদস্য আনোয়ার হোসেন ওরফে আর্মি আনোয়ার (৪৮)। পুলিশ সুপার মো. শাহাদাত হোসেন জানান, আটক জেএমবি জঙ্গিদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
জেএমবির বর্তমান সাংগঠনিক প্রধান আনোয়ার আলম খোকা ওরফে ভাগ্নে শহীদের নেতৃত্বে সংগঠনের সদস্যরা দেশে বড় ধরনের নাশকতা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া ভাগ্নে শহীদ জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, নাশকতা চালাতে তারা একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা নেওয়ার চেষ্টা করছিল। কিন্তু সমপ্রতি ওই দলটি সরকারের টার্গেটে পড়ে যাওয়ায় তারা সরাসরি জেএমবিকে সহযোগিতা করতে চায়নি। এ কারণে জেএমবি হামলা চালানোর জন্য কিছুটা দেরি করার সিদ্ধান্ত নেয়।
বগুড়ার পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবির গতকাল বুধবার কালের কণ্ঠকে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, 'জেএমবি দেশের ১২ জন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির 'হিটলিস্ট' তৈরি করেছিল। ভাগ্নে শহীদ লিস্টের সবার নাম প্রকাশ করেছে। তালিকার সবাই রাষ্ট্র পরিচালনার সঙ্গে সমপৃক্ত। জেএমবির পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে দেশে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসত।'
কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ভাগ্নে শহীদকে গতকাল বগুড়ার মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতে পাঠানো হয়। পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানালে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগেই শহীদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও গুলি রাখার অভিযোগে অস্ত্র আইনে বগুড়া সদর থানায় একটি মামলা করে পুলিশ। জামাই রফিকসহ ভাগ্নে শহীদের অন্য পাঁচ সহযোগীকে গাইবান্ধার আদালতে পাঠিয়ে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। ওই পাঁচজনের বিরুদ্ধে নাশকতা সৃষ্টি ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থানায় দুটি মামলা হয়েছে। আদালত জঙ্গিদের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করার পর পুলিশ ও জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলের কর্মকর্তারা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছেন।
বগুড়ার পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবির কালের কণ্ঠকে বলেন, 'ভাগ্নে শহীদ জানিয়েছে, জেএমবির সাবেক আমির শায়খ আব্দুর রহমানের সময় তৈরি করা ১০ বছরের কর্মপরিকল্পনা অনুসারে তারা কার্যক্রম চালাচ্ছিল। দলে একজনের অনুপস্থিতিতে বা কারো মৃত্যু হলে তৈরি হয় নতুন নেতৃত্ব। কিন্তু কাজ চলে পুরনো পরিকল্পনা অনুসারে। সমপ্রতি পুলিশের অভিযান জোরদার হওয়ায় জেএমবির শীর্ষ নেতারা ছদ্মবেশে বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান করে নতুন সদস্য তৈরির কাজে নামে। গ্রামের লোকজনকে দলে ভেড়ানোর জন্য মাঠে নামে তারা। দুর্গম এলাকাগুলোতে আস্তানা করে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পেঁৗছানোই ছিল তাদের টার্গেট।'
পুলিশ সুপার জানান, জিজ্ঞাসাবাদে ভাগ্নে শহীদ বলেছে, সে কখনো নিজে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে না। অন্যের ফোন ব্যবহার করে সাংকেতিক ভাষায় তারা পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ করে। জেএমবির আমির সাইদুর গ্রেপ্তার হওয়ার পর ঢাকা থেকে তার কাছে মোবাইলে মেসেজ আসে, হুজুর অসুস্থ। সব কর্মকাণ্ড বন্ধ। মোবাইলের সিম বন্ধ করে দাও। পরে কথা হবে। ওই মেসেজ পর্যায়ক্রমে সবার কাছে পেঁৗছে যায়।
ভাগ্নে শহীদ নিজেকে এসএসসি পাস বলে দাবি করলেও পুলিশ জানিয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন সম্পর্কে তার ভালো ধারণা রয়েছে। সে ভারতসহ কয়েকটি দেশে কমান্ডো ট্রেনিং নিয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়ার আগে শহীদ দিনাজপুর থেকে ঢাকায় গিয়ে এক সপ্তাহ এক আত্দীয়ের বাড়িতে ছিল। সেই আত্দীয় সরকারের একটি বিশেষ বাহিনীতে কর্মরত। তার ব্যাপারে খোঁজ-খবর নেওয়া শুরু হয়েছে।
জামাই রফিকও ছিল মোস্ট ওয়ান্টেড
ভাগ্নে শহীদের মতো পুলিশের তালিকায় মোস্ট ওয়ান্টেড হিসেবে ছিল জামাই রফিকের নাম। জেএমবির রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বে ছিল রফিক। উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় ছদ্মবেশে সে অবস্থান করেছে দিনের পর দিন। জিজ্ঞাসাবাদে রফিক জানায়, ফেরিওয়ালা বা রিকশাওয়ালা সেজে সে পুলিশের সামনে দিয়েই ঘুরেছে।
জামাই রফিক ওরফে হাসান (২৮) এবং জেএমবির গাইবান্ধা জেলার প্রধান জয়পুরহাট জেলার সদর উপজেলার গিয়াস ওরফে রাসেল (২৫) সম্পর্কে ভায়রা ভাই। তারা দুজন প্রেম করে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রাখালবুরুজ ইউনিয়নের আয়শা সিদ্দিকা ও সুমি বেগমকে বিয়ে করে। আয়শা ও সুমি মামাতো-ফুফাতো বোন। সেই সূত্রে রফিক ও গিয়াস প্রায় এক মাস আগে জামাই হিসেবে পৌরসভার প্রধান পাড়ায় রাজা মাস্টারের বাড়ি ১১ শ টাকায় ভাড়া নেয়। আয়শা ও সুমি বাসা ভাড়া নেওয়ার সময় বাড়িওয়ালাকে জানায়, তাদের স্বামীরা ওষুধ কম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি।
বাসার মালিক রাজা মিয়ার স্ত্রী লাইজু বেগম কালের কণ্ঠকে জানান, তিনি কখনো ভাড়াটিয়া মহিলাদের মুখ দেখতে পাননি। সব সময় তারা বোরকায় মুখ ঢেকে বাড়ির বাইরে ও ঘরের মধ্যে চলাফেরা করত। তাদের স্বামীরা প্রতিদিন ভোরে বাসা থেকে বেরিয়ে গিয়ে গভীর রাতে ফিরত। পুলিশ গত মঙ্গলবার রাতে ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বোমা তৈরির সরঞ্জাম, ধারালো অস্ত্র ও জিহাদি বই উদ্ধার করে। তবে অভিযানের সময় রফিকের স্ত্রী আয়শা এবং রাসেলের স্ত্রী সুমি পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
আমাদের গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, জামাই রফিকসহ গাইবান্ধা থেকে আটক পাঁচ জেএমবি জঙ্গিকে গতকাল বুধবার সিনিয়র বিচারিক হাকিম আজিজুর রহমানের আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাদের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। জামাই রফিক ছাড়া অন্য চার জঙ্গি হলো_গিয়াস উদ্দিন ওরফে রাসেল (২৫), এহসার সদস্য শাকিল (২২), আব্দুল মজিদ (৫০) ও সাবেক সেনা সদস্য আনোয়ার হোসেন ওরফে আর্মি আনোয়ার (৪৮)। পুলিশ সুপার মো. শাহাদাত হোসেন জানান, আটক জেএমবি জঙ্গিদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
14 July 2010
ধরা পড়ল জেএমবির বর্তমান প্রধান ভাগ্নে শহীদ, পাঁচ সহযোগী আটক
লিমন বাসার, বগুড়া
নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামা'আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সাংগঠনিক প্রধান আনোয়ার আলম খোকা ওরফে ভাগ্নে শহীদ, রাজশাহী বিভাগের প্রধান শফিকুল ইসলাম ওরফে জামাই রফিকসহ মোট ছয়জন নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভাগ্নে শহীদ পুলিশকে জানিয়েছে, সারা দেশে নতুন করে তারা দল গোছানো শুরু করেছিল। এ ছাড়া জেএমবির শক্তি জানান দিতে এবং সরকারকে হুঁশিয়ার করে দিতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ১২ জনের তালিকা তৈরি করে তাঁদের হত্যা করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
বগুড়া ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় সোমবার সন্ধ্যা থেকে গতকাল মঙ্গলবার ভোররাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে পুলিশ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের কাছে বেশ কিছু আগ্নেয়াস্ত্র, উচ্চ ক্ষমতার বিস্ফোরক ও দেশি অস্ত্র পাওয়া গেছে।
বগুড়ার পুলিশ সুপার হুমায়ন কবির কালের কণ্ঠকে জানান, জেএমবির প্রধান মাওলানা সাইদুর রহমান গ্রেপ্তার হওয়ার পর দলের সেকেন্ড ইন কমান্ড ভাগ্নে শহীদ সংগঠন পরিচালনার দায়িত্ব পায়। এরপর থেকেই সে সংগঠন গোছানোর কাজ শুরু করে। ভাগ্নে শহীদ পুলিশকে জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে তারা দেশের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ১২ জনের 'হিটলিস্ট' তৈরি করে পর্যায়ক্রমে তাঁদের হত্যা করার পরিকল্পনা করেছিল। এতে করে সরকার জেএমবির সক্ষমতা সম্পর্কে বুঝতে পারবে এবং সংগঠনের নেতা-কর্মীদের ওপর অত্যাচার বন্ধ হবে। পুলিশ সুপার তদন্তের স্বার্থে জেএমবির হিটলিস্টে থাকা ১২ জনের নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি। তিনি জানান, জেএমবির জঙ্গিরা এখন উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় আস্তানা গেড়েছে। সেখানে থেকেই এখন সারা দেশে সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
বগুড়া পুলিশ গতকাল প্রেস ব্রিফিংয়ে জানায়, পুলিশ সদর দপ্তরের বিশেষ গোয়েন্দা শাখা ও বগুড়া জেলা পুলিশের যৌথ অভিযান চালিয়ে সোমবার সন্ধ্যায় বগুড়া শহরের সিলিমপুর মহাসড়ক থেকে জেএমবির সাংগঠনকে প্রধান ভাগ্নে শহীদকে (৩০) গ্রেপ্তার করে। শহীদ ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরের আবদুল কাইয়ুমের ছেলে। ঢাকা থেকে বাসে চড়ে সে দিনাজপুর যাচ্ছিল।
সাদা পোশাকের পুলিশদল ভাগ্নে শহীদকে গ্রেপ্তার করার সময় সে লুঙ্গি ও গেঞ্জি পরে ছিল। কোমরে ছিল একটি রিভলবার ও তিনটি গুলি। এরপর রাতে ভাগ্নে শহীদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার প্রধানপাড়া এলাকার একটি বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয় জেএমবির উত্তরাঞ্চলের প্রধান শফিকুল ইসলাম ওরফে জামাই রফিককে (২৮)। সে ঠাকুরগাঁওয়ের লক্ষ্মীপুর গ্রামের আবদুস সালামের ছেলে। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার হয় গাইবান্ধা জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত জয়পুরহাটের রাংতা গ্রামের হায়দার আলীর ছেলে গিয়াস ওরফে রাসেল (২৫), এহসার সদস্য রাজশাহীর বাঘার আবদুল মান্নানের ছেলে শাকিল (২২), এহসার সদস্য বগুড়ার শিবগঞ্জের আবদুল মজিদ (৫০) এবং আনোয়ার হোসেন ওরফে আর্মি আনোয়ার (৪৮)।
জঙ্গিদের আস্তানা থেকে উদ্ধার করা হয় কয়েক কেজি উচ্চ ক্ষমতার বিস্ফোরক, কয়েক শ জিহাদি বই, ধারালো অস্ত্র, আগ্নেয়াস্ত্র ও টাইম বোমা তৈরির সরঞ্জাম। গতকাল পর্যন্ত এসব মালের জব্দ তালিকা তৈরি না হওয়ায় পুরো হিসাব পুলিশ জানাতে পারেনি।
পুলিশ সুপার হুমায়ন কবির জানান, ঢাকা থেকে পুলিশের মহাপরিদর্শক নুর মোহাম্মদ সরাসরি অভিযানের তত্ত্বাবধান করেন। পুলিশের বিশেষ সেলে ভাগ্নে শহীদ এবং অন্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। পুলিশ সুপার জানান, ভাগ্নে শহীদের সহযোগী হিসেবে গ্রেপ্তার হওয়া আবদুল মজিদ ও আর্মি আনোয়ার নতুন মুখ। তাদের বিষয়ে পুলিশের কাছে কোনো রেকর্ড নেই। বগুড়াসহ কয়েকটি জেলার মাঠপর্যায়ের জেএমবি সদস্য এবং দাতা সদস্যদের কাছে থেকে অর্থ সংগ্রহ করার দায়িত্ব ছিল এ দুজনের ওপর।
শিবিরকর্মী থেকে জেএমবিপ্রধান
মাঝারি গড়নের যুবক ভাগ্নে শহীদ ছিল বাংলা ভাইয়ের দেহরক্ষী। বগুড়া পুলিশের দেওয়া তথ্য ও কালের কণ্ঠের অনুসন্ধানে জানা গেছে, ছাত্রজীবনে শহীদ ছিল ছাত্রশিবিরের একনিষ্ঠ কর্মী। ১৯৯৮ সালের দিকে শিবিরের ক্যাডার হিসেবে সবাই তাকে চিনত। এরপর মামা তরিকুল ইসলামের (বর্তমানে ভারতে পলায়নরত) আহ্বানে জেএমবিতে যোগ দেয় শহীদ। তরিকুল ছিল ঠাকুরগাঁও জেলার জেএমবির প্রধান। জঙ্গিদলে যোগ দিয়ে আরো দুর্ধর্ষ হয়ে ওঠে শহীদ।
২০০১ সালের আগস্টে জেএমবির এহসার সদস্য করে শহীদকে লালমনিরহাট জেলায় জেএমবির কর্মকাণ্ড পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০০২ সালে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বোমাসহ জেএমবির দুজন এহসার সদস্য ধরা পড়লে দলের শীর্ষ পর্যায়ে বৈঠক হয়। বাংলা ভাইয়ের উপস্থিতিতে দিনাজপুরে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে সারা দেশের ১৫ জনকে নিয়ে ইসাবা (নীতি নির্ধারণ) কমিটি করা হয়। যৌথভাবে সেই ইসাবা কমিটির প্রধান হয় বাংলা ভাই ও ভাগ্নে শহীদ। এর আগে শহীদ ছিল বাংলা ভাইয়ের দেহরক্ষী।
২০০৪ সালে ভাগ্নে শহীদকে কিশোরগঞ্জ জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর জেএমবিপ্রধান শায়খ আবদুর রহমান এবং বাংলা ভাইসহ অন্য শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার ও ফাঁসি দেওয়ার পর ভেঙে পড়ে জেএমবির সাংগঠনিক শক্তি। গা-ঢাকা দিতে ভাগ্নে শহীদ চলে যায় ঢাকায়। ঢাকার এলিফ্যান্ট রোডের একটি হোটেলে সে বয়ের কাজ করে একটানা আড়াই বছর। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে ২০০৭ সালে ভাগ্নে শহীদ রংপুর ও দিনাজপুর জেলার দায়িত্ব পায়। তখন জেএমবিপ্রধানের দায়িত্বে ছিল মাওলানা সাইদুর।
২০০৮ সালের অক্টোবরে উত্তরাঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত জেএমবি নেতা জাহাঙ্গীর পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হলে উত্তরাঞ্চলের দায়িত্ব পড়ে ভাগ্নে শহীদের কাঁধে। এরপর গত বছর জেএমবির উচ্চপর্যায়ের চারজনকে নিয়ে গঠন করা হয় শুরা কমিটি। সেখানে মাওলানা সাইদুরের সঙ্গে দলের সেকেন্ড ইন কমান্ডের দায়িত্ব পায় ভাগ্নে শহীদ। চারজনের কমিটির অন্য সদস্যরা হলো_চট্টগ্রাম ও সিলেটের দায়িত্বপ্রাপ্ত আশরাফ (বর্তমানে জেলে), ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সোহেল মাহবুব (বর্তমানে ভারতে), খুলনা ও বরিশালের দায়িত্বপ্রাপ্ত আবির উদ্দিন (বর্তমানে জেলে)।
পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে ভাগ্নে শহীদ ভারতে গেরিলা প্রশিক্ষণ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছে। ঘরে বসেই বন্দুক, পিস্তলের গুলি ও উচ্চ ক্ষমতার বোমা তৈরি করতে পারে সে। শহীদের বাড়ি ঠাকুরগাঁও হলেও সে সব সময় অবস্থান করত দিনাজপুরের সীমান্ত এলাকায়। তার স্ত্রীর তিনজন। প্রথম স্ত্রী সাবিনা আঁখি ও দ্বিতীয় স্ত্রী বদরুন নাহারের বাড়ি জয়পুরহাটে। তৃতীয় স্ত্রী সুমির বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে। ভাগ্নে শহীদের বিরুদ্ধে পাবনার চাটমোহরে গ্রামীণ ব্যাংকে ডাকাতি, টাঙ্গাইলের বাসাইলে ব্র্যাক অফিসে ডাকাতি, অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদকে হত্যাচেষ্টা, জয়পুরহাটের ক্ষেতলালের মহেষপুরে পুলিশের ওপর হামলা করে অস্ত্র লুট করাসহ বিভিন্ন অভিযোগে সারা দেশে অর্ধশতাধিক মামলা রয়েছে।
জয়পুরহাটে পাঁচজন গ্রেপ্তার
জয়পুরহাট প্রতিনিধি জানান, জপুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলায় সন্দেহভাজন পাঁচ জেএমবি সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জেএমবির পলাতক সদস্য সিরাজুল ইসলামের বাড়িতে গত সোমবার সন্ধ্যায় বৈঠক করার সময় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ইরাক যুদ্ধের একটি সিডি, ল্যাপটপ, ডিজিটাল ক্যামেরা, ছয়টি মোবাইল ফোনসেট ও ১০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো_ঢাকার সূত্রাপুর থানার নারিন্দা রোডের তানভির হোসেন আদনান, একই থানার ৩৮ বানিয়ানগর এলাকার আল-মামুন স্বপন, নারিন্দা রোডের গোলাম মাহবুব, গেণ্ডারিয়া থানার ১০২ সরদনগর গুপ্ত রোডের লুৎফর রহমান এবং কোতোয়ালি থানার তাঁতীবাজারের ৩৯ সুতারনগর এলাকার রিয়াজ উদ্দিন।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা পাঁচবিবির তাজপুর গ্রামে জেএমবি সদস্য ও পুলিশের তালিকাভুক্ত আসামি সিরাজুল ইসলামের বাড়িতে বৈঠক করছিল। খবর পেয়ে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। তবে অভিযান চলাকালে সিরাজুল ইসলাম ও তার সহযোগী আবদুস শুকুর পালিয়ে যায়। পুলিশের ধারণা, তারা সেখানে কোনো নাশকতার পরিকল্পনা করছিল।
জেলার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালিদ জানান, এ ঘটনায় পাঁচবিবি থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।
নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামা'আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সাংগঠনিক প্রধান আনোয়ার আলম খোকা ওরফে ভাগ্নে শহীদ, রাজশাহী বিভাগের প্রধান শফিকুল ইসলাম ওরফে জামাই রফিকসহ মোট ছয়জন নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভাগ্নে শহীদ পুলিশকে জানিয়েছে, সারা দেশে নতুন করে তারা দল গোছানো শুরু করেছিল। এ ছাড়া জেএমবির শক্তি জানান দিতে এবং সরকারকে হুঁশিয়ার করে দিতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ১২ জনের তালিকা তৈরি করে তাঁদের হত্যা করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
বগুড়া ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় সোমবার সন্ধ্যা থেকে গতকাল মঙ্গলবার ভোররাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে পুলিশ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের কাছে বেশ কিছু আগ্নেয়াস্ত্র, উচ্চ ক্ষমতার বিস্ফোরক ও দেশি অস্ত্র পাওয়া গেছে।
বগুড়ার পুলিশ সুপার হুমায়ন কবির কালের কণ্ঠকে জানান, জেএমবির প্রধান মাওলানা সাইদুর রহমান গ্রেপ্তার হওয়ার পর দলের সেকেন্ড ইন কমান্ড ভাগ্নে শহীদ সংগঠন পরিচালনার দায়িত্ব পায়। এরপর থেকেই সে সংগঠন গোছানোর কাজ শুরু করে। ভাগ্নে শহীদ পুলিশকে জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে তারা দেশের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ১২ জনের 'হিটলিস্ট' তৈরি করে পর্যায়ক্রমে তাঁদের হত্যা করার পরিকল্পনা করেছিল। এতে করে সরকার জেএমবির সক্ষমতা সম্পর্কে বুঝতে পারবে এবং সংগঠনের নেতা-কর্মীদের ওপর অত্যাচার বন্ধ হবে। পুলিশ সুপার তদন্তের স্বার্থে জেএমবির হিটলিস্টে থাকা ১২ জনের নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি। তিনি জানান, জেএমবির জঙ্গিরা এখন উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় আস্তানা গেড়েছে। সেখানে থেকেই এখন সারা দেশে সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
বগুড়া পুলিশ গতকাল প্রেস ব্রিফিংয়ে জানায়, পুলিশ সদর দপ্তরের বিশেষ গোয়েন্দা শাখা ও বগুড়া জেলা পুলিশের যৌথ অভিযান চালিয়ে সোমবার সন্ধ্যায় বগুড়া শহরের সিলিমপুর মহাসড়ক থেকে জেএমবির সাংগঠনকে প্রধান ভাগ্নে শহীদকে (৩০) গ্রেপ্তার করে। শহীদ ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরের আবদুল কাইয়ুমের ছেলে। ঢাকা থেকে বাসে চড়ে সে দিনাজপুর যাচ্ছিল।
সাদা পোশাকের পুলিশদল ভাগ্নে শহীদকে গ্রেপ্তার করার সময় সে লুঙ্গি ও গেঞ্জি পরে ছিল। কোমরে ছিল একটি রিভলবার ও তিনটি গুলি। এরপর রাতে ভাগ্নে শহীদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার প্রধানপাড়া এলাকার একটি বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয় জেএমবির উত্তরাঞ্চলের প্রধান শফিকুল ইসলাম ওরফে জামাই রফিককে (২৮)। সে ঠাকুরগাঁওয়ের লক্ষ্মীপুর গ্রামের আবদুস সালামের ছেলে। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার হয় গাইবান্ধা জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত জয়পুরহাটের রাংতা গ্রামের হায়দার আলীর ছেলে গিয়াস ওরফে রাসেল (২৫), এহসার সদস্য রাজশাহীর বাঘার আবদুল মান্নানের ছেলে শাকিল (২২), এহসার সদস্য বগুড়ার শিবগঞ্জের আবদুল মজিদ (৫০) এবং আনোয়ার হোসেন ওরফে আর্মি আনোয়ার (৪৮)।
জঙ্গিদের আস্তানা থেকে উদ্ধার করা হয় কয়েক কেজি উচ্চ ক্ষমতার বিস্ফোরক, কয়েক শ জিহাদি বই, ধারালো অস্ত্র, আগ্নেয়াস্ত্র ও টাইম বোমা তৈরির সরঞ্জাম। গতকাল পর্যন্ত এসব মালের জব্দ তালিকা তৈরি না হওয়ায় পুরো হিসাব পুলিশ জানাতে পারেনি।
পুলিশ সুপার হুমায়ন কবির জানান, ঢাকা থেকে পুলিশের মহাপরিদর্শক নুর মোহাম্মদ সরাসরি অভিযানের তত্ত্বাবধান করেন। পুলিশের বিশেষ সেলে ভাগ্নে শহীদ এবং অন্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। পুলিশ সুপার জানান, ভাগ্নে শহীদের সহযোগী হিসেবে গ্রেপ্তার হওয়া আবদুল মজিদ ও আর্মি আনোয়ার নতুন মুখ। তাদের বিষয়ে পুলিশের কাছে কোনো রেকর্ড নেই। বগুড়াসহ কয়েকটি জেলার মাঠপর্যায়ের জেএমবি সদস্য এবং দাতা সদস্যদের কাছে থেকে অর্থ সংগ্রহ করার দায়িত্ব ছিল এ দুজনের ওপর।
শিবিরকর্মী থেকে জেএমবিপ্রধান
মাঝারি গড়নের যুবক ভাগ্নে শহীদ ছিল বাংলা ভাইয়ের দেহরক্ষী। বগুড়া পুলিশের দেওয়া তথ্য ও কালের কণ্ঠের অনুসন্ধানে জানা গেছে, ছাত্রজীবনে শহীদ ছিল ছাত্রশিবিরের একনিষ্ঠ কর্মী। ১৯৯৮ সালের দিকে শিবিরের ক্যাডার হিসেবে সবাই তাকে চিনত। এরপর মামা তরিকুল ইসলামের (বর্তমানে ভারতে পলায়নরত) আহ্বানে জেএমবিতে যোগ দেয় শহীদ। তরিকুল ছিল ঠাকুরগাঁও জেলার জেএমবির প্রধান। জঙ্গিদলে যোগ দিয়ে আরো দুর্ধর্ষ হয়ে ওঠে শহীদ।
২০০১ সালের আগস্টে জেএমবির এহসার সদস্য করে শহীদকে লালমনিরহাট জেলায় জেএমবির কর্মকাণ্ড পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০০২ সালে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বোমাসহ জেএমবির দুজন এহসার সদস্য ধরা পড়লে দলের শীর্ষ পর্যায়ে বৈঠক হয়। বাংলা ভাইয়ের উপস্থিতিতে দিনাজপুরে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে সারা দেশের ১৫ জনকে নিয়ে ইসাবা (নীতি নির্ধারণ) কমিটি করা হয়। যৌথভাবে সেই ইসাবা কমিটির প্রধান হয় বাংলা ভাই ও ভাগ্নে শহীদ। এর আগে শহীদ ছিল বাংলা ভাইয়ের দেহরক্ষী।
২০০৪ সালে ভাগ্নে শহীদকে কিশোরগঞ্জ জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর জেএমবিপ্রধান শায়খ আবদুর রহমান এবং বাংলা ভাইসহ অন্য শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার ও ফাঁসি দেওয়ার পর ভেঙে পড়ে জেএমবির সাংগঠনিক শক্তি। গা-ঢাকা দিতে ভাগ্নে শহীদ চলে যায় ঢাকায়। ঢাকার এলিফ্যান্ট রোডের একটি হোটেলে সে বয়ের কাজ করে একটানা আড়াই বছর। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে ২০০৭ সালে ভাগ্নে শহীদ রংপুর ও দিনাজপুর জেলার দায়িত্ব পায়। তখন জেএমবিপ্রধানের দায়িত্বে ছিল মাওলানা সাইদুর।
২০০৮ সালের অক্টোবরে উত্তরাঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত জেএমবি নেতা জাহাঙ্গীর পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হলে উত্তরাঞ্চলের দায়িত্ব পড়ে ভাগ্নে শহীদের কাঁধে। এরপর গত বছর জেএমবির উচ্চপর্যায়ের চারজনকে নিয়ে গঠন করা হয় শুরা কমিটি। সেখানে মাওলানা সাইদুরের সঙ্গে দলের সেকেন্ড ইন কমান্ডের দায়িত্ব পায় ভাগ্নে শহীদ। চারজনের কমিটির অন্য সদস্যরা হলো_চট্টগ্রাম ও সিলেটের দায়িত্বপ্রাপ্ত আশরাফ (বর্তমানে জেলে), ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সোহেল মাহবুব (বর্তমানে ভারতে), খুলনা ও বরিশালের দায়িত্বপ্রাপ্ত আবির উদ্দিন (বর্তমানে জেলে)।
পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে ভাগ্নে শহীদ ভারতে গেরিলা প্রশিক্ষণ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছে। ঘরে বসেই বন্দুক, পিস্তলের গুলি ও উচ্চ ক্ষমতার বোমা তৈরি করতে পারে সে। শহীদের বাড়ি ঠাকুরগাঁও হলেও সে সব সময় অবস্থান করত দিনাজপুরের সীমান্ত এলাকায়। তার স্ত্রীর তিনজন। প্রথম স্ত্রী সাবিনা আঁখি ও দ্বিতীয় স্ত্রী বদরুন নাহারের বাড়ি জয়পুরহাটে। তৃতীয় স্ত্রী সুমির বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে। ভাগ্নে শহীদের বিরুদ্ধে পাবনার চাটমোহরে গ্রামীণ ব্যাংকে ডাকাতি, টাঙ্গাইলের বাসাইলে ব্র্যাক অফিসে ডাকাতি, অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদকে হত্যাচেষ্টা, জয়পুরহাটের ক্ষেতলালের মহেষপুরে পুলিশের ওপর হামলা করে অস্ত্র লুট করাসহ বিভিন্ন অভিযোগে সারা দেশে অর্ধশতাধিক মামলা রয়েছে।
জয়পুরহাটে পাঁচজন গ্রেপ্তার
জয়পুরহাট প্রতিনিধি জানান, জপুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলায় সন্দেহভাজন পাঁচ জেএমবি সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জেএমবির পলাতক সদস্য সিরাজুল ইসলামের বাড়িতে গত সোমবার সন্ধ্যায় বৈঠক করার সময় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ইরাক যুদ্ধের একটি সিডি, ল্যাপটপ, ডিজিটাল ক্যামেরা, ছয়টি মোবাইল ফোনসেট ও ১০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো_ঢাকার সূত্রাপুর থানার নারিন্দা রোডের তানভির হোসেন আদনান, একই থানার ৩৮ বানিয়ানগর এলাকার আল-মামুন স্বপন, নারিন্দা রোডের গোলাম মাহবুব, গেণ্ডারিয়া থানার ১০২ সরদনগর গুপ্ত রোডের লুৎফর রহমান এবং কোতোয়ালি থানার তাঁতীবাজারের ৩৯ সুতারনগর এলাকার রিয়াজ উদ্দিন।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা পাঁচবিবির তাজপুর গ্রামে জেএমবি সদস্য ও পুলিশের তালিকাভুক্ত আসামি সিরাজুল ইসলামের বাড়িতে বৈঠক করছিল। খবর পেয়ে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। তবে অভিযান চলাকালে সিরাজুল ইসলাম ও তার সহযোগী আবদুস শুকুর পালিয়ে যায়। পুলিশের ধারণা, তারা সেখানে কোনো নাশকতার পরিকল্পনা করছিল।
জেলার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালিদ জানান, এ ঘটনায় পাঁচবিবি থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।
10 July 2010
বিভিন্ন স্থানে জামায়াত-শিবিরের ৪৬ নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার
কালের কণ্ঠ ডেস্ক
দেশের বিভিন্ন স্থানে গত দুই দিনে জামায়াত-শিবিরের মোট ৪৬ জন নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার হয়েছে। এর মধ্যে গতকাল শনিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২০ জন, কিশোরগঞ্জ ও নরসিংদীতে ১৪ জন ও নওগাঁ থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে শুক্রবার রাতে জয়পুরহাট থেকে সাতজন ও ঝালকাঠি থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। কেন্দ্রীয় নেতাদের মুক্তির দাবিতে পোস্টার লাগানো, গোপনে বৈঠক ও পুলিশের কাজে বাধা দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :
ব্রাহ্মণবাড়িয়া : গতকাল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় 'রাষ্ট্রবিরোধী' গোপন বৈঠক চলাকালে ২০ জামায়াত-শিবির ক্যাডারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পৌর এলাকার কাজীপাড়ার পৌর কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট শাহ আলম খন্দকারের বাসা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হচ্ছে ইসলামী ছাত্রশিবিরের জেলা সেক্রেটারি রাশেদুল কবির রানা, পৌর ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি খালেদ সাইফুল্লাহ, জামাতের কেন্দ্রীয় নেতা লোকমান হোসেন, শিবির ক্যাডার রহমতুল্লাহ, ইমরান, মকবুল, রাহাত, জিয়াউল, সোহেল, আবদুল হামিদ, নাছির, রোমান, ফারুক, সলিম, সাবি্বর, আনাস, আবদুল্লাহ, মুছা, বিল্লাল ও রিফাত। রিফাত ঢাকায় কর্মরত পুলিশের এসবির ইন্সপেক্টর হাবিবুর রহমানের ছেলে।
কিশোরগঞ্জ : জামায়াত নেতা নিজামী, মুজাহিদ ও সাঈদীর মুক্তি দাবি করে পোস্টার লাগানোর সময় গতকাল ভোরে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাত নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলো জেলা ছাত্রশিবিরের অর্থ সম্পাদক বরকতউল্লাহ, পৌর শাখার সভাপতি আবদুল্লাহ মো. তাহের, মাসুদ, খালিদ, সাজিদ, ইউসুফ ও সাদ্দাম।
নরসিংদী : নরসিংদীতে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলো শামীম, বোরহান, রুবেল, তরিকুল, আমিনুল, মোবারক ও ইসমাইল। তারা জেলার জামিয়া কাশিমিয়া মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। তারা পুলিশ ও সাংবাদিকদের সামনে নিজেদের শিবিরকর্মী হিসেবে স্বীকার করেছে।
নওগাঁ : নওগাঁয় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলো রহিম, হাবিব ও রশীদ। গতকাল ভোর ৬টার দিকে শহরের দয়ালের মোড়ে পোস্টার লাগানোর সময় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
জয়পুরহাট : আক্কেলপুর উপজেলার রোয়ার গ্রামের শাহ সেকেন্দার জামে মসজিদে শুক্রবার রাতে বৈঠক করার সময় পুলিশ অভিযান চালিয়ে আক্কেলপুর থানা ছাত্রশিবিরের সভাপতি-সম্পাদকসহ সাত শিবির ক্যাডারকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলো আল মামুন, মোতাছিম, হাবিবুর, ফরহাদ, ফরহাদুল, মিজানুর ও আফতাব।
ঝালকাঠি : পুলিশের কাজে বাধা প্রদানের মামলায় ঝালকাঠিতে জামায়াতে ইসলামীর নেতা মজিবুর রহমান ও নাসির উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে শহরের কিফাইতনগর ও কৃষ্ণকাঠির বাড়ি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল ঝালকাঠির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক আবু জাফর নোমানী তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
দেশের বিভিন্ন স্থানে গত দুই দিনে জামায়াত-শিবিরের মোট ৪৬ জন নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার হয়েছে। এর মধ্যে গতকাল শনিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২০ জন, কিশোরগঞ্জ ও নরসিংদীতে ১৪ জন ও নওগাঁ থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে শুক্রবার রাতে জয়পুরহাট থেকে সাতজন ও ঝালকাঠি থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। কেন্দ্রীয় নেতাদের মুক্তির দাবিতে পোস্টার লাগানো, গোপনে বৈঠক ও পুলিশের কাজে বাধা দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :
ব্রাহ্মণবাড়িয়া : গতকাল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় 'রাষ্ট্রবিরোধী' গোপন বৈঠক চলাকালে ২০ জামায়াত-শিবির ক্যাডারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পৌর এলাকার কাজীপাড়ার পৌর কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট শাহ আলম খন্দকারের বাসা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হচ্ছে ইসলামী ছাত্রশিবিরের জেলা সেক্রেটারি রাশেদুল কবির রানা, পৌর ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি খালেদ সাইফুল্লাহ, জামাতের কেন্দ্রীয় নেতা লোকমান হোসেন, শিবির ক্যাডার রহমতুল্লাহ, ইমরান, মকবুল, রাহাত, জিয়াউল, সোহেল, আবদুল হামিদ, নাছির, রোমান, ফারুক, সলিম, সাবি্বর, আনাস, আবদুল্লাহ, মুছা, বিল্লাল ও রিফাত। রিফাত ঢাকায় কর্মরত পুলিশের এসবির ইন্সপেক্টর হাবিবুর রহমানের ছেলে।
কিশোরগঞ্জ : জামায়াত নেতা নিজামী, মুজাহিদ ও সাঈদীর মুক্তি দাবি করে পোস্টার লাগানোর সময় গতকাল ভোরে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাত নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলো জেলা ছাত্রশিবিরের অর্থ সম্পাদক বরকতউল্লাহ, পৌর শাখার সভাপতি আবদুল্লাহ মো. তাহের, মাসুদ, খালিদ, সাজিদ, ইউসুফ ও সাদ্দাম।
নরসিংদী : নরসিংদীতে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলো শামীম, বোরহান, রুবেল, তরিকুল, আমিনুল, মোবারক ও ইসমাইল। তারা জেলার জামিয়া কাশিমিয়া মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। তারা পুলিশ ও সাংবাদিকদের সামনে নিজেদের শিবিরকর্মী হিসেবে স্বীকার করেছে।
নওগাঁ : নওগাঁয় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলো রহিম, হাবিব ও রশীদ। গতকাল ভোর ৬টার দিকে শহরের দয়ালের মোড়ে পোস্টার লাগানোর সময় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
জয়পুরহাট : আক্কেলপুর উপজেলার রোয়ার গ্রামের শাহ সেকেন্দার জামে মসজিদে শুক্রবার রাতে বৈঠক করার সময় পুলিশ অভিযান চালিয়ে আক্কেলপুর থানা ছাত্রশিবিরের সভাপতি-সম্পাদকসহ সাত শিবির ক্যাডারকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলো আল মামুন, মোতাছিম, হাবিবুর, ফরহাদ, ফরহাদুল, মিজানুর ও আফতাব।
ঝালকাঠি : পুলিশের কাজে বাধা প্রদানের মামলায় ঝালকাঠিতে জামায়াতে ইসলামীর নেতা মজিবুর রহমান ও নাসির উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে শহরের কিফাইতনগর ও কৃষ্ণকাঠির বাড়ি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল ঝালকাঠির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক আবু জাফর নোমানী তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
22 June 2010
উল্লাপাড়ায় ছাত্রশিবিরের অনুষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
উল্লাপাড়ায় কিশোর কণ্ঠ পাঠক ফোরামের নামে ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে আয়োজিত মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষ পর্যন্ত হয়নি। প্রশাসনের অনুমতি না থাকায় সকালে পুলিশ অনুষ্ঠানটি বন্ধ করে দেয়। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা মওলানা রফিকুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, জনবিচ্ছিন্ন এ সরকার বাকশালী কায়দায় জনগণের মুখ বন্ধের পাঁয়তারা করছে। তিনি বলেন, 'উল্লাপাড়া ইকরা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে কৃতী ছাত্রছাত্রীরা উপস্থিত হলে পুলিশ এসে বাধা দেয়। এ সময় পুলিশ সংগঠনটির ব্যানার খুলে নেয়।'
এদিকে উল্লাপাড়া থানার ওসি ব্যানার খুলে নেওয়ার কথা অস্বীকার করেন। এ ব্যাপারে উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অতুল চন্দ্র সরকার জানান, এ ধরনের অনুষ্ঠানের ব্যাপারে আয়োজকরা প্রশাসনের কাছে অনুমতি নেয়নি।
উল্লাপাড়ায় কিশোর কণ্ঠ পাঠক ফোরামের নামে ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে আয়োজিত মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষ পর্যন্ত হয়নি। প্রশাসনের অনুমতি না থাকায় সকালে পুলিশ অনুষ্ঠানটি বন্ধ করে দেয়। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা মওলানা রফিকুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, জনবিচ্ছিন্ন এ সরকার বাকশালী কায়দায় জনগণের মুখ বন্ধের পাঁয়তারা করছে। তিনি বলেন, 'উল্লাপাড়া ইকরা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে কৃতী ছাত্রছাত্রীরা উপস্থিত হলে পুলিশ এসে বাধা দেয়। এ সময় পুলিশ সংগঠনটির ব্যানার খুলে নেয়।'
এদিকে উল্লাপাড়া থানার ওসি ব্যানার খুলে নেওয়ার কথা অস্বীকার করেন। এ ব্যাপারে উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অতুল চন্দ্র সরকার জানান, এ ধরনের অনুষ্ঠানের ব্যাপারে আয়োজকরা প্রশাসনের কাছে অনুমতি নেয়নি।
28 May 2010
জামায়াতের সমাবেশে ১৪৪ ধারা ইউএনও, ওসির ওপর হামলা
নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া | তারিখ: ২৯-০৫-২০১০
বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার সাজাপুর ফুলতলা মাদ্রাসার মাঠে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দেওয়ান আবদুস সামাদ ও থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিছুর রহমানের ওপর হামলা হয়েছে। ইউএনও সামাদ গতকাল শুক্রবার জামায়াতের সমাবেশে ১৪৪ ধারা জারি করলে জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা এ ঘটনা ঘটান বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বগুড়া জেলা জামায়াতের সাবেক আমির মাওলানা আবদুর রহমান ফকীর তিন বছর আগে মারা যান। তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করে গতকাল ফুলতলা মাদ্রাসার মাঠে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এতে রাজনৈতিক সমাবেশের আদলে বক্তৃতার মঞ্চ তৈরি ও ব্যানার টানানো হয়। ব্যানারে প্রধান অতিথি হিসেবে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ ও বিশেষ অতিথি হিসেবে দলের জেলা কমিটির আমির শাহাবুদ্দিনের নাম লেখা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল থেকেই জামায়াতের নেতা-কর্মীরা ওই মাঠে জড়ো হতে শুরু করেন। দুপুর সাড়ে ১২টায় আলী আহসান মুজাহিদ অনুষ্ঠানস্থলে আসেন। এ খবরে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ তৎপর হয়ে ওঠে। দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে মুজাহিদ মঞ্চে উঠে বক্তৃতা দিতে শুরু করেন। এর পরপরই শাজাহানপুরের ইউএনও দ্রুত মঞ্চে উঠে মাঠে ১৪৪ ধারা জারির কথা জানান এবং মুজাহিদকে বক্তব্য না দিতে অনুরোধ করেন। মুজাহিদ মঞ্চ থেকে নেমে যাওয়ার পরপরই ইউএনও মাইক হাতে নিয়ে সেখানে ১৪৪ ধারা জারির কথা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ‘দোয়া মাহফিলের নামে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সমাবেশ করার কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। তাই এই মুহূর্তে ১৪৪ ধারা জারি করা হলো।’
ইউএনও সমাবেশে আসা জামায়াতের সাত-আট হাজার নেতা-কর্মীকে মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দেন। তখন মঞ্চে উপস্থিত জামায়াতের স্থানীয় নেতারা জানান, জুমার নামাজ আদায় না করা পর্যন্ত তাঁরা মাঠ ছাড়বেন না। ইউএনও এতে আপত্তি জানিয়ে জামায়াতের নেতা-কর্মীদের পাশের মসজিদে নামাজ পড়ার অনুরোধ করেন। তাঁর ওই বক্তব্যে মাঠে উপস্থিত জামায়াতের কয়েক শ নেতা-কর্মী ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তাঁরা মঞ্চে দাঁড়িয়ে থাকা ইউএনওর দিকে তেড়ে যান। একপর্যায়ে মঞ্চে থাকা দুপচাঁচিয়া উপজেলা জামায়াতের আমির ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল গনি মণ্ডল ইউএনওকে নামিয়ে সমাবেশের বাইরে নেওয়ার চেষ্টা করেন। আর তখনই জামায়াতের বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা ইউএনওকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারেন। অবস্থা বেগতিক দেখে সঙ্গে থাকা শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিছুর রহমানসহ পুলিশ কর্মকর্তারা ইউএনওকে উদ্ধার করে দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। জামায়াতের কর্মীরা তখন ইউএনও এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে প্রচুর ইট নিক্ষেপ করেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা জামায়াতের সদস্য ও শাজাহানপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াছিন আলীর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে জানান। পরে তাঁর ব্যক্তিগত মুঠোফোন ও বাসার ফোনে কয়েকবার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন ধরেননি।
জামায়াতের বগুড়া জেলা শাখার আমির শাহাবুদ্দিন ইউএনওর ওপর হামলার কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘তাঁকে (ইউএনও) কেউ মারেননি। জুমার নামাজের প্রস্তুতির মুহূর্তে ১৪৪ ধারা জারি করায় মুসল্লিরা কিছুটা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছিলেন। পরে সেখানে নামাজ পড়ে তাঁরা শান্তভাবেই চলে যান।’
একাধিকবার চেষ্টা করেও শাজাহানপুরের ইউএনও দেওয়ান আবদুস সামাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তবে ইউএনওর সঙ্গে থাকা শাজাহানপুর থানার ওসি আনিসুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
ওসি বলেন, ‘আমরা জানতাম সেখানে জামায়াতের সাবেক নেতার দোয়া মাহফিল হবে। কিন্তু মাঠে বিশাল সমাবেশ করা হবে এবং সেখানে দলের সেক্রেটারি জেনারেল উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেবেন, এ বিষয়টি জানানো হয়নি এবং কোনো অনুমতিও নেওয়া হয়নি। বিষয়টি জানার পর ইউএনওকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে গিয়ে সমাবেশে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। একপর্যায়ে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা আমাদের দুজনের ওপর চড়াও হয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন।’ ওসি বলেন, ‘জামায়াত দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানের নামে গোপনে রাজনৈতিক সমাবেশ করতে চেয়েছিল। এ বিষয়ে মামলা করা হবে।’
খবরের লিংক
বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার সাজাপুর ফুলতলা মাদ্রাসার মাঠে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দেওয়ান আবদুস সামাদ ও থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিছুর রহমানের ওপর হামলা হয়েছে। ইউএনও সামাদ গতকাল শুক্রবার জামায়াতের সমাবেশে ১৪৪ ধারা জারি করলে জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা এ ঘটনা ঘটান বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বগুড়া জেলা জামায়াতের সাবেক আমির মাওলানা আবদুর রহমান ফকীর তিন বছর আগে মারা যান। তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করে গতকাল ফুলতলা মাদ্রাসার মাঠে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এতে রাজনৈতিক সমাবেশের আদলে বক্তৃতার মঞ্চ তৈরি ও ব্যানার টানানো হয়। ব্যানারে প্রধান অতিথি হিসেবে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ ও বিশেষ অতিথি হিসেবে দলের জেলা কমিটির আমির শাহাবুদ্দিনের নাম লেখা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল থেকেই জামায়াতের নেতা-কর্মীরা ওই মাঠে জড়ো হতে শুরু করেন। দুপুর সাড়ে ১২টায় আলী আহসান মুজাহিদ অনুষ্ঠানস্থলে আসেন। এ খবরে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ তৎপর হয়ে ওঠে। দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে মুজাহিদ মঞ্চে উঠে বক্তৃতা দিতে শুরু করেন। এর পরপরই শাজাহানপুরের ইউএনও দ্রুত মঞ্চে উঠে মাঠে ১৪৪ ধারা জারির কথা জানান এবং মুজাহিদকে বক্তব্য না দিতে অনুরোধ করেন। মুজাহিদ মঞ্চ থেকে নেমে যাওয়ার পরপরই ইউএনও মাইক হাতে নিয়ে সেখানে ১৪৪ ধারা জারির কথা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ‘দোয়া মাহফিলের নামে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সমাবেশ করার কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। তাই এই মুহূর্তে ১৪৪ ধারা জারি করা হলো।’
ইউএনও সমাবেশে আসা জামায়াতের সাত-আট হাজার নেতা-কর্মীকে মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দেন। তখন মঞ্চে উপস্থিত জামায়াতের স্থানীয় নেতারা জানান, জুমার নামাজ আদায় না করা পর্যন্ত তাঁরা মাঠ ছাড়বেন না। ইউএনও এতে আপত্তি জানিয়ে জামায়াতের নেতা-কর্মীদের পাশের মসজিদে নামাজ পড়ার অনুরোধ করেন। তাঁর ওই বক্তব্যে মাঠে উপস্থিত জামায়াতের কয়েক শ নেতা-কর্মী ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তাঁরা মঞ্চে দাঁড়িয়ে থাকা ইউএনওর দিকে তেড়ে যান। একপর্যায়ে মঞ্চে থাকা দুপচাঁচিয়া উপজেলা জামায়াতের আমির ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল গনি মণ্ডল ইউএনওকে নামিয়ে সমাবেশের বাইরে নেওয়ার চেষ্টা করেন। আর তখনই জামায়াতের বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা ইউএনওকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারেন। অবস্থা বেগতিক দেখে সঙ্গে থাকা শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিছুর রহমানসহ পুলিশ কর্মকর্তারা ইউএনওকে উদ্ধার করে দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। জামায়াতের কর্মীরা তখন ইউএনও এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে প্রচুর ইট নিক্ষেপ করেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা জামায়াতের সদস্য ও শাজাহানপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াছিন আলীর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে জানান। পরে তাঁর ব্যক্তিগত মুঠোফোন ও বাসার ফোনে কয়েকবার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন ধরেননি।
জামায়াতের বগুড়া জেলা শাখার আমির শাহাবুদ্দিন ইউএনওর ওপর হামলার কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘তাঁকে (ইউএনও) কেউ মারেননি। জুমার নামাজের প্রস্তুতির মুহূর্তে ১৪৪ ধারা জারি করায় মুসল্লিরা কিছুটা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছিলেন। পরে সেখানে নামাজ পড়ে তাঁরা শান্তভাবেই চলে যান।’
একাধিকবার চেষ্টা করেও শাজাহানপুরের ইউএনও দেওয়ান আবদুস সামাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তবে ইউএনওর সঙ্গে থাকা শাজাহানপুর থানার ওসি আনিসুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
ওসি বলেন, ‘আমরা জানতাম সেখানে জামায়াতের সাবেক নেতার দোয়া মাহফিল হবে। কিন্তু মাঠে বিশাল সমাবেশ করা হবে এবং সেখানে দলের সেক্রেটারি জেনারেল উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেবেন, এ বিষয়টি জানানো হয়নি এবং কোনো অনুমতিও নেওয়া হয়নি। বিষয়টি জানার পর ইউএনওকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে গিয়ে সমাবেশে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। একপর্যায়ে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা আমাদের দুজনের ওপর চড়াও হয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন।’ ওসি বলেন, ‘জামায়াত দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানের নামে গোপনে রাজনৈতিক সমাবেশ করতে চেয়েছিল। এ বিষয়ে মামলা করা হবে।’
খবরের লিংক
7 April 2010
ঢাকায় ১৭ জন, রাজশাহীর শিবির নেতা পাবনায় গ্রেপ্তার
নিজস্ব প্রতিবেদক | তারিখ: ০৮-০৪-২০১০
রাজধানীর পল্লবী থেকে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ১৭ জন কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে এক অভিযানে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ছাড়া পাবনায় আরেকজন শিবিরকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পল্লবী থানা পুলিশ জানায়, পল্লবীর ১২/এ সেকশনের ২/২ নম্বর সড়কের একটি বাসার নিচতলায় চারটি কক্ষ নিয়ে শিবির-সদস্যদের মেস। ওই মেসের একটি কক্ষে শিবিরকর্মীদের গোপন বৈঠকের খবর পেয়ে মঙ্গলবার রাতে পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে সবাইকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার হওয়া ১৭ জন হলেন শিবিরের পল্লবী থানা কমিটির সভাপতি আবদুল মালেক (২১), কর্মী রিফাত (২৩), রায়হানুল (২২), বেল্লাল হোসেন (২৮), রফিকুল ইসলাম (২৬), সাইফুল আলম (২৬), আবুল খায়ের (২৪), আল-আমিন (১৯), হারুন (২০), আবদুল মতিন (২০), শরীয়ত উল্লাহ (২৮), তারেক হাসান (২৫), আবদুর রহিম (১৬), হোসাইন (২৬), আরিফ হোসেন (৩৪), আবুল হাসনাত (১৯) ও ওয়াহিদুল আলম ভূঁইয়া (২৭)। এঁদের মধ্যে ওয়াহিদুল আলম ভূঁইয়া কুষ্টিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ পাস করেছেন। তিনি সম্প্রতি ছাত্রশিবির থেকে জামায়াতের কর্মী হয়েছেন বলে জানা গেছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, এঁদের সবাইকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে গতকাল বুধবার আদালতে পাঠানো হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁদের বৈঠকে কোনো নাশকতামূলক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল বলে পুলিশ কর্মকর্তারা ধারণা করছেন। এ ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
আমাদের পাবনা অফিস জানায়, মঙ্গলবার রাতে পুলিশ পাবনার সুজানগর উপজেলার বলরামপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে শিবির নেতা মো. মনসুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে। তিনি শিবিরের রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ২৫ নম্বর ওয়ার্ড শাখার সভাপতি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ফারুক হত্যা মামলায় জড়িত থাকার সন্দেহে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ দাবি করেছে।
সুজানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ বি এম জাহিদুল ইসলাম বলেন, মনসুর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী শিক্ষা বিষয়ের ছাত্র। তিনি রাজশাহী শহরের সাধুপাড়া এলাকার একটি মেসে থাকতেন। ফারুক হত্যার পর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন।
খবরের লিংক
নিজস্ব প্রতিবেদক | তারিখ: ০৮-০৪-২০১০
রাজধানীর পল্লবী থেকে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ১৭ জন কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে এক অভিযানে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ছাড়া পাবনায় আরেকজন শিবিরকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পল্লবী থানা পুলিশ জানায়, পল্লবীর ১২/এ সেকশনের ২/২ নম্বর সড়কের একটি বাসার নিচতলায় চারটি কক্ষ নিয়ে শিবির-সদস্যদের মেস। ওই মেসের একটি কক্ষে শিবিরকর্মীদের গোপন বৈঠকের খবর পেয়ে মঙ্গলবার রাতে পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে সবাইকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার হওয়া ১৭ জন হলেন শিবিরের পল্লবী থানা কমিটির সভাপতি আবদুল মালেক (২১), কর্মী রিফাত (২৩), রায়হানুল (২২), বেল্লাল হোসেন (২৮), রফিকুল ইসলাম (২৬), সাইফুল আলম (২৬), আবুল খায়ের (২৪), আল-আমিন (১৯), হারুন (২০), আবদুল মতিন (২০), শরীয়ত উল্লাহ (২৮), তারেক হাসান (২৫), আবদুর রহিম (১৬), হোসাইন (২৬), আরিফ হোসেন (৩৪), আবুল হাসনাত (১৯) ও ওয়াহিদুল আলম ভূঁইয়া (২৭)। এঁদের মধ্যে ওয়াহিদুল আলম ভূঁইয়া কুষ্টিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ পাস করেছেন। তিনি সম্প্রতি ছাত্রশিবির থেকে জামায়াতের কর্মী হয়েছেন বলে জানা গেছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, এঁদের সবাইকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে গতকাল বুধবার আদালতে পাঠানো হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁদের বৈঠকে কোনো নাশকতামূলক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল বলে পুলিশ কর্মকর্তারা ধারণা করছেন। এ ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
আমাদের পাবনা অফিস জানায়, মঙ্গলবার রাতে পুলিশ পাবনার সুজানগর উপজেলার বলরামপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে শিবির নেতা মো. মনসুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে। তিনি শিবিরের রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ২৫ নম্বর ওয়ার্ড শাখার সভাপতি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ফারুক হত্যা মামলায় জড়িত থাকার সন্দেহে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ দাবি করেছে।
সুজানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ বি এম জাহিদুল ইসলাম বলেন, মনসুর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী শিক্ষা বিষয়ের ছাত্র। তিনি রাজশাহী শহরের সাধুপাড়া এলাকার একটি মেসে থাকতেন। ফারুক হত্যার পর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন।
খবরের লিংক
17 March 2010
কাহালুতে মুক্তিযোদ্ধাদের দাবিঃ যুদ্ধাপরাধী দিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন মানব না
নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া | তারিখ: ১৮-০৩-২০১০
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে বগুড়ার কাহালু উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জামায়াতে ইসলামীর জেলা নায়েবে আমিরকে দিয়ে পতাকা উত্তোলন না করার দাবি জানানো হয়েছে। গতকাল বুধবার কাহালু উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে এক জরুরি সভায় তাঁকে স্বাধীনতাবিরোধী আখ্যা দিয়ে এ দাবি জানানো হয়েছে।
মুক্তিযোদ্ধা হোসেন আলীর সভাপতিত্বে সভায় বক্তারা বলেন, ‘কাহালু উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা তায়েব আলী একজন যুদ্ধাপরাধী। তিনি যুদ্ধের সময় অনেক অপকর্ম করেছেন। তিনি যদি স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন, তাহলে আমরা মুক্তিযোদ্ধারা তা মেনে নিতে পারি না।’
গত রোববার কাহালু উপজেলা পরিষদের সভা কক্ষে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা হয়। সভায় সিদ্ধান্ত হয় ২৬ মার্চ জাতীয় অনুষ্ঠানের কর্মসূচির শুরুতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করবেন তায়েব আলী। সভায় উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন ব্যক্তি এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, তিনি (তায়েব আলী) পতাকা উত্তোলন করলে তাঁরা স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচি বর্জন ও প্রতিরোধ করবেন।
গতকালের সভায় মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, উপজেলা প্রশাসন যদি আগামী সোমবারের মধ্যে এ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করে, তাহলে পরদিন বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক নজিবর রহমান বলেন, ‘আমরা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এটা মেনে নিতে পারি না।’
খবরের লিংক
নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া | তারিখ: ১৮-০৩-২০১০
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে বগুড়ার কাহালু উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জামায়াতে ইসলামীর জেলা নায়েবে আমিরকে দিয়ে পতাকা উত্তোলন না করার দাবি জানানো হয়েছে। গতকাল বুধবার কাহালু উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে এক জরুরি সভায় তাঁকে স্বাধীনতাবিরোধী আখ্যা দিয়ে এ দাবি জানানো হয়েছে।
মুক্তিযোদ্ধা হোসেন আলীর সভাপতিত্বে সভায় বক্তারা বলেন, ‘কাহালু উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা তায়েব আলী একজন যুদ্ধাপরাধী। তিনি যুদ্ধের সময় অনেক অপকর্ম করেছেন। তিনি যদি স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন, তাহলে আমরা মুক্তিযোদ্ধারা তা মেনে নিতে পারি না।’
গত রোববার কাহালু উপজেলা পরিষদের সভা কক্ষে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা হয়। সভায় সিদ্ধান্ত হয় ২৬ মার্চ জাতীয় অনুষ্ঠানের কর্মসূচির শুরুতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করবেন তায়েব আলী। সভায় উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন ব্যক্তি এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, তিনি (তায়েব আলী) পতাকা উত্তোলন করলে তাঁরা স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচি বর্জন ও প্রতিরোধ করবেন।
গতকালের সভায় মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, উপজেলা প্রশাসন যদি আগামী সোমবারের মধ্যে এ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করে, তাহলে পরদিন বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক নজিবর রহমান বলেন, ‘আমরা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এটা মেনে নিতে পারি না।’
খবরের লিংক
24 February 2010
বগুড়ায় জামায়াত নেতার অবৈধ দখল থেকে জমি মুক্ত
নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া | তারিখ: ২৪-০২-২০১০
বগুড়ার জেলা প্রশাসন স্থানীয় এক জামায়াত নেতার দখলে থাকা সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করেছে। গতকাল মঙ্গলবার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা এলাকায় এই উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে জায়গা দখলমুক্ত করা হয়। আট মাসে প্রায় দুই কোটি টাকার সরকারি ভূমি দখলমুক্ত করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মাদলায় সরকারি রাস্তা অবৈধভাবে দখল করে রেখেছিলেন জামায়াতের নেতা আজাদুর রহমান। সেখানে দোকানঘর ও একটি বেসরকারি স্কুলের ঘর করে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করে আসছিলেন তিনি। তাঁকে নোটিশ দেওয়া হলে তিনি আদালতে যান। আদালত থেকে স্থিতাবস্তার আদেশ দিলে কার্যক্রম বন্ধ থাকে। সম্প্রতি এই স্থিতাবস্তা প্রত্যাহার হওয়ায় সোমবার গিয়ে সেগুলো উচ্ছেদ করা হয়। এখানে প্রায় দুই শতক জায়গা দখলে ছিল।
কয়েক দিন আগে সোনাতলা উপজেলার বালুয়া মৌজায় ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়সংলগ্ন খাস খতিয়ান জায়গা দখলমুক্ত করা হয়।
জেলা রাজস্ব বিভাগের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদের নোটিশ দেন। এরপর জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের সহায়তায় দুই সপ্তাহ ধরে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। উচ্ছেদ অভিযানে এসব জমি থেকে পাকা, সেমিপাকা ও কাঁচা অবৈধ স্থাপনা ভেঙে দেওয়া হয়। উচ্ছেদ করা স্থাপনার মধ্যে রয়েছে দোকান, হোটেল, কসাইখানা, ঘরবাড়ি ও বেসরকারি কেজি স্কুল।
গত আট মাসে বগুড়া জেলায় এ পর্যন্ত ১ দশমিক শূন্য ৪ একর খাস ও অর্পিত সম্পত্তি দখলমুক্ত করা হয়েছে। উদ্ধার করা এসব জমির দাম প্রায় দুই কোটি টাকা। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বলেন, অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
খবরের লিংক
নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া | তারিখ: ২৪-০২-২০১০
বগুড়ার জেলা প্রশাসন স্থানীয় এক জামায়াত নেতার দখলে থাকা সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করেছে। গতকাল মঙ্গলবার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা এলাকায় এই উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে জায়গা দখলমুক্ত করা হয়। আট মাসে প্রায় দুই কোটি টাকার সরকারি ভূমি দখলমুক্ত করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মাদলায় সরকারি রাস্তা অবৈধভাবে দখল করে রেখেছিলেন জামায়াতের নেতা আজাদুর রহমান। সেখানে দোকানঘর ও একটি বেসরকারি স্কুলের ঘর করে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করে আসছিলেন তিনি। তাঁকে নোটিশ দেওয়া হলে তিনি আদালতে যান। আদালত থেকে স্থিতাবস্তার আদেশ দিলে কার্যক্রম বন্ধ থাকে। সম্প্রতি এই স্থিতাবস্তা প্রত্যাহার হওয়ায় সোমবার গিয়ে সেগুলো উচ্ছেদ করা হয়। এখানে প্রায় দুই শতক জায়গা দখলে ছিল।
কয়েক দিন আগে সোনাতলা উপজেলার বালুয়া মৌজায় ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়সংলগ্ন খাস খতিয়ান জায়গা দখলমুক্ত করা হয়।
জেলা রাজস্ব বিভাগের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদের নোটিশ দেন। এরপর জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের সহায়তায় দুই সপ্তাহ ধরে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। উচ্ছেদ অভিযানে এসব জমি থেকে পাকা, সেমিপাকা ও কাঁচা অবৈধ স্থাপনা ভেঙে দেওয়া হয়। উচ্ছেদ করা স্থাপনার মধ্যে রয়েছে দোকান, হোটেল, কসাইখানা, ঘরবাড়ি ও বেসরকারি কেজি স্কুল।
গত আট মাসে বগুড়া জেলায় এ পর্যন্ত ১ দশমিক শূন্য ৪ একর খাস ও অর্পিত সম্পত্তি দখলমুক্ত করা হয়েছে। উদ্ধার করা এসব জমির দাম প্রায় দুই কোটি টাকা। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বলেন, অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
খবরের লিংক
16 February 2010
আদমদীঘিতে জামায়াত-শিবিরের গোপন প্রশিক্ষণ ও তৎপরতা?
আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি | তারিখ: ১৬-০২-২০১০
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার হাজি তাছের উদ্দিন মহিলা কলেজ ও পার্শ্ববর্তী ইসলামি কল্যাণ ট্রাস্ট কার্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে জামায়াত-শিবিরের গোপন প্রশিক্ষণ ও তৎপরতা চলে আসছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় আলোচিত হলেও পুলিশের পক্ষ থেকে কোনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এলাকাবাসী জানায়, হাজি তাছের উদ্দিন মহিলা কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে জামায়াত-শিবির সেখানে তাদের বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু করে। বিগত জোট সরকারের সময় তাদের তৎপরতা আরও বৃদ্ধি পায়। ওই সময়ে কলেজের পাশে তারা ইসলামি কল্যাণ ট্রাস্ট নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে। দুটি প্রতিষ্ঠান নিবন্ধিত না হওয়া সত্ত্বেও বিগত জোট সরকারের সময় তারা সরকারি অর্থসহ টিআর প্রকল্পের মাধ্যমে গম ও চাল বরাদ্দ পায়।
কলেজের পার্শ্ববর্তী এলাকার লোকজন জানায়, গভীর রাত পর্যন্ত কল্যাণ ট্রাস্টের ভবনে গোপন বৈঠক চলে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অনেক অচেনা লোকজন সেখানে আসে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু রেজা খানের অভিযোগ, কলেজসহ ইসলামি কল্যাণ ট্রাস্ট কার্যালয়ে জামায়াত-শিবিরের গোপন তৎপরতার বিষয়টি উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় উত্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
উপজেলার কোমারপুর গ্রামের বাসিন্দা বেলাল হোসেন বলেন, কল্যাণ ট্রাস্ট নামের ভবনটি এলাকাবাসীর কাছে একটি রহস্যময় ভবন। সেখানে ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের অন্তরালে চলে নানা ধরনের প্রশিক্ষণ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কেন্দ্র ও কলেজের পার্শ্ববর্তী এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, ইসলামি কল্যাণ ট্রাস্ট নামে ভবনটির পরিচয় দেওয়া হলেও সেখানে জামায়াত-শিবির ও বিভিন্ন উগ্রপন্থী ইসলামি সংগঠনের কর্মতত্পরতা চলে। কল্যাণ ট্রাস্টের নেতৃত্বে রয়েছেন জামায়াতের আদমদীঘি উপজেলার সাবেক আমির ও বর্তমান বগুড়া জেলা জামায়াতের নেতা মোফাজ্জল হক, উপজেলা জামায়াতের আমির আতোয়ার হোসেন, হাজি তাছের উদ্দিন কলেজের অধ্যক্ষ ও জামায়াতের নেতা মোস্তফা আহম্মেদ, উপেজলা ভাইস চেয়ারম্যান ইউনুস আলীসহ জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষস্থানীয় নেতারা।
হাজি তাছের উদ্দিন কলেজের অধ্যক্ষ মোস্তফা আহম্মেদ কলেজে জামায়াত-শিবিরের প্রশিক্ষণ ও গোপন তৎপরতার কথা অস্বীকার করে বলেন, কলেজটি যাতে এমপিওভুক্ত না হয়, এ জন্য একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে। উপজেলা জামায়াতের আমির আতোয়ার হোসেন বলেন, তাঁদের দলীয় কার্যালয় না থাকায় কল্যাণ ট্রাস্ট কার্যালয়টি দলীয় কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এখানে কোনো প্রশিক্ষণ বা গোপন বৈঠক হয় না।
আদমদীঘি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওবায়দুর রহমান বলেন, উপজেলা আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক সভায় হাজি তাছের উদ্দিন মহিলা কলেজে জামায়াত-শিবিরের গোপন প্রশিক্ষণের বিষয়টি আলোচিত হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক বলেন, ইসলামি কল্যাণ ট্রাস্টের বিষয়ে তাঁর কাছেও অভিযোগ এসেছে। ইসলামি কল্যাণ ট্রাস্ট ভবন ও হাজি তাছের উদ্দিন মহিলা কলেজের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
খবরের লিংক
আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি | তারিখ: ১৬-০২-২০১০
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার হাজি তাছের উদ্দিন মহিলা কলেজ ও পার্শ্ববর্তী ইসলামি কল্যাণ ট্রাস্ট কার্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে জামায়াত-শিবিরের গোপন প্রশিক্ষণ ও তৎপরতা চলে আসছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় আলোচিত হলেও পুলিশের পক্ষ থেকে কোনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এলাকাবাসী জানায়, হাজি তাছের উদ্দিন মহিলা কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে জামায়াত-শিবির সেখানে তাদের বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু করে। বিগত জোট সরকারের সময় তাদের তৎপরতা আরও বৃদ্ধি পায়। ওই সময়ে কলেজের পাশে তারা ইসলামি কল্যাণ ট্রাস্ট নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে। দুটি প্রতিষ্ঠান নিবন্ধিত না হওয়া সত্ত্বেও বিগত জোট সরকারের সময় তারা সরকারি অর্থসহ টিআর প্রকল্পের মাধ্যমে গম ও চাল বরাদ্দ পায়।
কলেজের পার্শ্ববর্তী এলাকার লোকজন জানায়, গভীর রাত পর্যন্ত কল্যাণ ট্রাস্টের ভবনে গোপন বৈঠক চলে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অনেক অচেনা লোকজন সেখানে আসে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু রেজা খানের অভিযোগ, কলেজসহ ইসলামি কল্যাণ ট্রাস্ট কার্যালয়ে জামায়াত-শিবিরের গোপন তৎপরতার বিষয়টি উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় উত্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
উপজেলার কোমারপুর গ্রামের বাসিন্দা বেলাল হোসেন বলেন, কল্যাণ ট্রাস্ট নামের ভবনটি এলাকাবাসীর কাছে একটি রহস্যময় ভবন। সেখানে ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের অন্তরালে চলে নানা ধরনের প্রশিক্ষণ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কেন্দ্র ও কলেজের পার্শ্ববর্তী এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, ইসলামি কল্যাণ ট্রাস্ট নামে ভবনটির পরিচয় দেওয়া হলেও সেখানে জামায়াত-শিবির ও বিভিন্ন উগ্রপন্থী ইসলামি সংগঠনের কর্মতত্পরতা চলে। কল্যাণ ট্রাস্টের নেতৃত্বে রয়েছেন জামায়াতের আদমদীঘি উপজেলার সাবেক আমির ও বর্তমান বগুড়া জেলা জামায়াতের নেতা মোফাজ্জল হক, উপজেলা জামায়াতের আমির আতোয়ার হোসেন, হাজি তাছের উদ্দিন কলেজের অধ্যক্ষ ও জামায়াতের নেতা মোস্তফা আহম্মেদ, উপেজলা ভাইস চেয়ারম্যান ইউনুস আলীসহ জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষস্থানীয় নেতারা।
হাজি তাছের উদ্দিন কলেজের অধ্যক্ষ মোস্তফা আহম্মেদ কলেজে জামায়াত-শিবিরের প্রশিক্ষণ ও গোপন তৎপরতার কথা অস্বীকার করে বলেন, কলেজটি যাতে এমপিওভুক্ত না হয়, এ জন্য একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে। উপজেলা জামায়াতের আমির আতোয়ার হোসেন বলেন, তাঁদের দলীয় কার্যালয় না থাকায় কল্যাণ ট্রাস্ট কার্যালয়টি দলীয় কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এখানে কোনো প্রশিক্ষণ বা গোপন বৈঠক হয় না।
আদমদীঘি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওবায়দুর রহমান বলেন, উপজেলা আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক সভায় হাজি তাছের উদ্দিন মহিলা কলেজে জামায়াত-শিবিরের গোপন প্রশিক্ষণের বিষয়টি আলোচিত হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক বলেন, ইসলামি কল্যাণ ট্রাস্টের বিষয়ে তাঁর কাছেও অভিযোগ এসেছে। ইসলামি কল্যাণ ট্রাস্ট ভবন ও হাজি তাছের উদ্দিন মহিলা কলেজের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
খবরের লিংক
13 February 2010
গণপিটুনিতে স্বেচ্ছাসেবক লীগের 'শিবির' সভাপতি নিহত
বগুড়া অফিস
বগুড়ার নন্দীগ্রাম পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান জুয়েল গণপিটুনিতে মারা গেছে। পুলিশের ভাষ্যমতে, চাঁদাবাজি করতে গিয়ে একজনকে ছুরিকাঘাত করে জনতার হাতে ধরা পড়ে সে। যাকে ছুরিকাঘাত করেছিল, ইউসুফ হোসেন নামের (৫৫) সেই ব্যক্তিটিও মারা গেছেন। নন্দীগ্রাম উপজেলার ওমরপুর হাটে গতকাল শুক্রবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।
জুয়েল এক সময় ইসলামী ছাত্র শিবির করত বলে দাবি করেছেন নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইউনুস আলী। বগুড়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আসাদুর রহমান দুলুর দুটি মোবাইল ফোনই বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে নন্দীগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, গতকাল বিকেলে জুয়েল তার দুই সহযোগীকে নিয়ে ওমরপুর হাটে চাঁদা চাইতে যায়। এ সময় হাটের ইজারাদার শেরপুরের শফিকুল ইসলাম শিরু হাটে ছিলেন না। তাঁর কর্মচারী আনোয়ার হোসেন তাদের তিন শ টাকা দিয়ে বিদায় করতে গেলে জুয়েল ও তার সহযোগীরা ক্ষিপ্ত হয়ে হাটের 'তোলা' আদায়ের রসিদ বই ছিনিয়ে নেয়। এ সময় অন্য কর্মচারীরা বাধা দিতে গেলে জুয়েল ও তার দুই সহযোগী হাট কর্মচারী ইউসুফ হোসেনকে ছুরিকাঘাত করে। তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে সামছুল হক (৩৫) ও পার্শ্ববর্তী কদমা গ্রামের মাহফুজার রহমান মাফু (৩৭) ছুরিকাহত হন।
চাঁদাবাজরা পালানোর সময় জনতা জুয়েলকে ধরে ব্যাপক মারধর করে। পুলিশ গিয়ে জুয়েলকে জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ইউসুফ ও জুয়েলকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল (শজিমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তারা মারা যায়।
ইউসুফ ওমরপুর গ্রামের কদু মিয়ার ছেলে। উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ইউনুস আলী চাঁদাবাজির ঘটনা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, 'জুয়েল একসময় ছাত্রশিবির করত। তার বাবাও ছিল চিহ্নিত রাজাকার। সেই জুয়েল কী করে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা হয়ে গেল তা এখন খুঁজে দেখতে হবে।'
গতকাল রাতে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ বিষয়ে থানায় কোনো মামলা হয়নি।
প্রসঙ্গত, ছাত্রলীগের মধ্যে ছাত্রশিবির ঢুকে পড়েছে_৯ ফেব্রুয়ারি বক্তব্য দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।
খবরের লিংক
বগুড়ার নন্দীগ্রাম পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান জুয়েল গণপিটুনিতে মারা গেছে। পুলিশের ভাষ্যমতে, চাঁদাবাজি করতে গিয়ে একজনকে ছুরিকাঘাত করে জনতার হাতে ধরা পড়ে সে। যাকে ছুরিকাঘাত করেছিল, ইউসুফ হোসেন নামের (৫৫) সেই ব্যক্তিটিও মারা গেছেন। নন্দীগ্রাম উপজেলার ওমরপুর হাটে গতকাল শুক্রবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।
জুয়েল এক সময় ইসলামী ছাত্র শিবির করত বলে দাবি করেছেন নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইউনুস আলী। বগুড়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আসাদুর রহমান দুলুর দুটি মোবাইল ফোনই বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে নন্দীগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, গতকাল বিকেলে জুয়েল তার দুই সহযোগীকে নিয়ে ওমরপুর হাটে চাঁদা চাইতে যায়। এ সময় হাটের ইজারাদার শেরপুরের শফিকুল ইসলাম শিরু হাটে ছিলেন না। তাঁর কর্মচারী আনোয়ার হোসেন তাদের তিন শ টাকা দিয়ে বিদায় করতে গেলে জুয়েল ও তার সহযোগীরা ক্ষিপ্ত হয়ে হাটের 'তোলা' আদায়ের রসিদ বই ছিনিয়ে নেয়। এ সময় অন্য কর্মচারীরা বাধা দিতে গেলে জুয়েল ও তার দুই সহযোগী হাট কর্মচারী ইউসুফ হোসেনকে ছুরিকাঘাত করে। তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে সামছুল হক (৩৫) ও পার্শ্ববর্তী কদমা গ্রামের মাহফুজার রহমান মাফু (৩৭) ছুরিকাহত হন।
চাঁদাবাজরা পালানোর সময় জনতা জুয়েলকে ধরে ব্যাপক মারধর করে। পুলিশ গিয়ে জুয়েলকে জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ইউসুফ ও জুয়েলকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল (শজিমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তারা মারা যায়।
ইউসুফ ওমরপুর গ্রামের কদু মিয়ার ছেলে। উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ইউনুস আলী চাঁদাবাজির ঘটনা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, 'জুয়েল একসময় ছাত্রশিবির করত। তার বাবাও ছিল চিহ্নিত রাজাকার। সেই জুয়েল কী করে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা হয়ে গেল তা এখন খুঁজে দেখতে হবে।'
গতকাল রাতে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ বিষয়ে থানায় কোনো মামলা হয়নি।
প্রসঙ্গত, ছাত্রলীগের মধ্যে ছাত্রশিবির ঢুকে পড়েছে_৯ ফেব্রুয়ারি বক্তব্য দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।
খবরের লিংক
ফারুকের পরিবারের জন্য অটোরিকশা
জয়পুরহাট প্রতিনিধি | তারিখ: ১৩-০২-২০১০
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের ক্যাডারদের হাতে নিহত গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের কর্মী ফারুক হোসেনের পরিবারকে একটি নতুন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা দিয়েছে জয়পুরহাট জেলা আওয়ামী লীগ।
জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ গতকাল শুক্রবার দুপুরে সদর উপজেলার খোর্দ্দ সগুনা গ্রামে ফারুকের বাড়িতে গিয়ে তাঁর বাবা ফজলুর রহমানের হাতে এই অটোরিকশা তুলে দেন। এ সময় তিনি ব্যক্তিগতভাবে ফজলুর রহমানের হাতে ১০ হাজার টাকাও দেন।
জেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা গতকাল দুপুরে ফারুকের বাড়িতে গেলে তাঁর বাবা-মা ও বোনেরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ফারুকের কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে মোনাজাত করেন।
ঋণ মওকুফের আহ্বান: ফারুক হোসেনের পরিবারের নেওয়া ৬৭ হাজার টাকা শিক্ষাঋণ মওকুফের জন্য তাঁর মা হাসনা বেগম গত বৃহস্পতিবার গ্রামীণ ব্যাংকের জয়পুরহাটের দোগাছী বাজার শাখায় আবেদন করেন। এই আবেদন নওগাঁ আঞ্চলিক শাখার প্রধান কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।
খবরের লিংক
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের ক্যাডারদের হাতে নিহত গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের কর্মী ফারুক হোসেনের পরিবারকে একটি নতুন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা দিয়েছে জয়পুরহাট জেলা আওয়ামী লীগ।
জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ গতকাল শুক্রবার দুপুরে সদর উপজেলার খোর্দ্দ সগুনা গ্রামে ফারুকের বাড়িতে গিয়ে তাঁর বাবা ফজলুর রহমানের হাতে এই অটোরিকশা তুলে দেন। এ সময় তিনি ব্যক্তিগতভাবে ফজলুর রহমানের হাতে ১০ হাজার টাকাও দেন।
জেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা গতকাল দুপুরে ফারুকের বাড়িতে গেলে তাঁর বাবা-মা ও বোনেরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ফারুকের কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে মোনাজাত করেন।
ঋণ মওকুফের আহ্বান: ফারুক হোসেনের পরিবারের নেওয়া ৬৭ হাজার টাকা শিক্ষাঋণ মওকুফের জন্য তাঁর মা হাসনা বেগম গত বৃহস্পতিবার গ্রামীণ ব্যাংকের জয়পুরহাটের দোগাছী বাজার শাখায় আবেদন করেন। এই আবেদন নওগাঁ আঞ্চলিক শাখার প্রধান কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।
খবরের লিংক
10 February 2010
দারিদ্র্য দমাতে পারেনি, বর্বরতার কাছে হার
আসাদুল ইসলাম, জয়পুরহাট | তারিখ: ১০-০২-২০১০
বাড়িজুড়ে দারিদ্র্যের ছাপ। ঘর বলতে একটি মাটির ছাপরা। মাটির ঘরের সঙ্গে লাগোয়া বাঁশের বেড়ায় তৈরি একটা ছোট্ট কুঠিঘর। সেখানে একটা কাঠের চৌকি। বাড়িতে এলে ফারুক এখানে থাকতেন।
গতকাল জয়পুরহাট জেলার সদর উপজেলার ভাদসা ইউনিয়নের খোর্দ্দ সগুনা গ্রামে ফারুকের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল বাড়ির পাশে তাঁর কবর খোঁড়া হচ্ছে। নির্বাক হয়ে বসে আছেন বাবা ফজলুর রহমান। বিলাপ করছেন মা হাছনা বানু আর দুই বোন।
বাবা ফজলুর রহমানের একমাত্র ছেলে ফারুক হোসেন। তাঁর লেখাপড়ার জন্য দেড় বিঘা জমি বন্ধক রেখেছেন বাবা। আর এক বিঘায় আবাদ করে কোনো রকমে সংসার চালান। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের খরচ তো চলে না। তাই তিন বছর আগে সদর উপজেলার দোগাছী গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ৬৭ হাজার টাকা শিক্ষাঋণ নিয়েছেন বাবা। তিন মাস পর পর গ্রামীণ ব্যাংক থেকে পাঁচ হাজার টাকা করে তুলে ছেলেকে দিতেন। ২ ফেব্রুয়ারি গ্রামীণ ব্যাংক থেকে পাঁচ হাজার টাকা তোলা হয়। সেই টাকা নিয়ে ফারুক বাবা-মায়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে যান। হয়তো আবার আসতেন তিন মাস পর। কিন্তু ফারুক ফিরে এসেছেন গতকাল। লাশ হয়ে।

ছেলে ফারুক ছিল তাঁর আশার ধন। সেই ছেলের লাশ কাঁধে নিয়ে কবরে নামাতে হবে বাবা ফজলুর রহমানকে। এই ভার বাবা সইবেন কী করেঃ ছবি: প্রথম আলো
গত সোমবার সন্ধ্যায় চাচি আলতা বানুর মোবাইলে ফোন করে ফারুক কথা বলেন মা হাছনা বানুর সঙ্গে। এটাই ছিল ফারুকের সঙ্গে মায়ের শেষ যোগাযোগ। হাছনা বানু জানান, ‘ফোনে ছেলে বলেছে, মা একটু ধৈর্য ধর। বাবাকে বোঝাও, আর একটা বছর কষ্ট কর। পড়া শেষ হলে একটা চাকরি যেভাবেই হোক জোগাড় করতে পারলে সংসার নিয়ে আর তোমাদের চিন্তা করতে হবে না।’
প্রতিবেশী দাদা আবদুস ছাত্তার বলেন, ‘বাড়িতে এলে ফারুক সবারই খোঁজখবর নিত। খুব ভদ্র ছিল। গরিব ঘরের হলেও সে গ্রামের গর্ব ছিল।’ তিনি বলেন, ‘ফজলুর আর্থিক অবস্থা খুবই করুণ। অনেক সময় খেয়ে না-খেয়ে দিন পার করে। ছেলেটাকে নিয়েই ছিল তার যত আশা।’
বাবা ফজলুর রহমান জানান, তাঁরা ভোটের সময় নৌকায় ভোট দিতেন। ছেলেকেও নৌকায় ভোট দিতে বলতেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ফারুক ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন, তা তিনি জানতেন না।
গতকাল দুপুরে ফারুকের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিবেশীরা সব ছুটে এসছে। সবার চোখে পানি। দরিদ্র কৃষক ফজলুর রহমানের তিন সন্তান। বড় মেয়ে আছমা বেগমের বিয়ে হয়েছে। তারপর ছেলে ফারুক। তাঁর ছোট বোন ফারজানা বেগম। তাঁরও বিয়ে হয়েছে।
ফারজানা ভাইয়ের শোকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। মাঝে মাঝে চিত্কার দিয়ে বলছেন, ‘ও ভাই, তুমি কোথায়? আমাদের এমন কেন হলো?’
আর মা! ‘হামার বাবা কোটে হারে গেলরে। কোন্ দুষমন মোর বাবাক মারি ফেলে দিল। মোর বাবা গত মঙ্গলবার ট্যাকা লিয়ে গেল। আর কয়ে গেল আর এক বছর পড়লেই পড়া শেষ করে চাকরি করে গ্রামীণ ব্যাংকের লোন শোধ করমো। বাবার মুককোনা একনিই হামাক এ্যানা দেখাও।’ সান্ত্বনা দিতে গিয়ে ফারুকের মায়ের বিলাপ শুনে প্রতিবেশীরাও কান্নায় ভেঙে পড়ছে।
ফারুকের সহপাঠী গ্রামের সুফল হোসেন জানান, ফারুক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিত বিভাগে ভর্তি হয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। ২০০২ সালে ছোট মাঝিপাড়া উচ্চবিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে পাস করে। তারপর জয়পুরহাট তালীমুল ইসলাম স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২০০৪ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পান। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিত বিভাগে সম্মান (অনার্স) শ্রেণীতে ভর্তি হন। ক্লাস ওয়ান থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত ফারুক কখনো দ্বিতীয় হননি।
সুফল বলেন, ‘সকাল নয়টার দিকে টেলিভিশনে ফারুকের মৃত্যুর খবর পাই। তারপর বাড়ি গিয়ে ফারুকের মাকে বলি, চাচি ফারুকের কোনো খবর পেয়েছেন? তখন পর্যন্ত তাঁরা কিছুই জানতে পারেননি। বেলা ১১টার দিকে তাঁরা মৃত্যু সম্পর্কে নিশ্চিত হন।’
ছোট মাঝিপাড়া উচ্চবিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক হযরত আলী জানান, ‘এ রকম একটি মেধাবী ছাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে খুন হবে, এটা ভাবা যায় না। দরিদ্র এই পরিবারটির এখন কী হবে, ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে।’
খবরের লিংক
আসাদুল ইসলাম, জয়পুরহাট | তারিখ: ১০-০২-২০১০
বাড়িজুড়ে দারিদ্র্যের ছাপ। ঘর বলতে একটি মাটির ছাপরা। মাটির ঘরের সঙ্গে লাগোয়া বাঁশের বেড়ায় তৈরি একটা ছোট্ট কুঠিঘর। সেখানে একটা কাঠের চৌকি। বাড়িতে এলে ফারুক এখানে থাকতেন।
গতকাল জয়পুরহাট জেলার সদর উপজেলার ভাদসা ইউনিয়নের খোর্দ্দ সগুনা গ্রামে ফারুকের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল বাড়ির পাশে তাঁর কবর খোঁড়া হচ্ছে। নির্বাক হয়ে বসে আছেন বাবা ফজলুর রহমান। বিলাপ করছেন মা হাছনা বানু আর দুই বোন।
বাবা ফজলুর রহমানের একমাত্র ছেলে ফারুক হোসেন। তাঁর লেখাপড়ার জন্য দেড় বিঘা জমি বন্ধক রেখেছেন বাবা। আর এক বিঘায় আবাদ করে কোনো রকমে সংসার চালান। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের খরচ তো চলে না। তাই তিন বছর আগে সদর উপজেলার দোগাছী গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ৬৭ হাজার টাকা শিক্ষাঋণ নিয়েছেন বাবা। তিন মাস পর পর গ্রামীণ ব্যাংক থেকে পাঁচ হাজার টাকা করে তুলে ছেলেকে দিতেন। ২ ফেব্রুয়ারি গ্রামীণ ব্যাংক থেকে পাঁচ হাজার টাকা তোলা হয়। সেই টাকা নিয়ে ফারুক বাবা-মায়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে যান। হয়তো আবার আসতেন তিন মাস পর। কিন্তু ফারুক ফিরে এসেছেন গতকাল। লাশ হয়ে।
ছেলে ফারুক ছিল তাঁর আশার ধন। সেই ছেলের লাশ কাঁধে নিয়ে কবরে নামাতে হবে বাবা ফজলুর রহমানকে। এই ভার বাবা সইবেন কী করেঃ ছবি: প্রথম আলো
গত সোমবার সন্ধ্যায় চাচি আলতা বানুর মোবাইলে ফোন করে ফারুক কথা বলেন মা হাছনা বানুর সঙ্গে। এটাই ছিল ফারুকের সঙ্গে মায়ের শেষ যোগাযোগ। হাছনা বানু জানান, ‘ফোনে ছেলে বলেছে, মা একটু ধৈর্য ধর। বাবাকে বোঝাও, আর একটা বছর কষ্ট কর। পড়া শেষ হলে একটা চাকরি যেভাবেই হোক জোগাড় করতে পারলে সংসার নিয়ে আর তোমাদের চিন্তা করতে হবে না।’
প্রতিবেশী দাদা আবদুস ছাত্তার বলেন, ‘বাড়িতে এলে ফারুক সবারই খোঁজখবর নিত। খুব ভদ্র ছিল। গরিব ঘরের হলেও সে গ্রামের গর্ব ছিল।’ তিনি বলেন, ‘ফজলুর আর্থিক অবস্থা খুবই করুণ। অনেক সময় খেয়ে না-খেয়ে দিন পার করে। ছেলেটাকে নিয়েই ছিল তার যত আশা।’
বাবা ফজলুর রহমান জানান, তাঁরা ভোটের সময় নৌকায় ভোট দিতেন। ছেলেকেও নৌকায় ভোট দিতে বলতেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ফারুক ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন, তা তিনি জানতেন না।
গতকাল দুপুরে ফারুকের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিবেশীরা সব ছুটে এসছে। সবার চোখে পানি। দরিদ্র কৃষক ফজলুর রহমানের তিন সন্তান। বড় মেয়ে আছমা বেগমের বিয়ে হয়েছে। তারপর ছেলে ফারুক। তাঁর ছোট বোন ফারজানা বেগম। তাঁরও বিয়ে হয়েছে।
ফারজানা ভাইয়ের শোকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। মাঝে মাঝে চিত্কার দিয়ে বলছেন, ‘ও ভাই, তুমি কোথায়? আমাদের এমন কেন হলো?’
আর মা! ‘হামার বাবা কোটে হারে গেলরে। কোন্ দুষমন মোর বাবাক মারি ফেলে দিল। মোর বাবা গত মঙ্গলবার ট্যাকা লিয়ে গেল। আর কয়ে গেল আর এক বছর পড়লেই পড়া শেষ করে চাকরি করে গ্রামীণ ব্যাংকের লোন শোধ করমো। বাবার মুককোনা একনিই হামাক এ্যানা দেখাও।’ সান্ত্বনা দিতে গিয়ে ফারুকের মায়ের বিলাপ শুনে প্রতিবেশীরাও কান্নায় ভেঙে পড়ছে।
ফারুকের সহপাঠী গ্রামের সুফল হোসেন জানান, ফারুক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিত বিভাগে ভর্তি হয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। ২০০২ সালে ছোট মাঝিপাড়া উচ্চবিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে পাস করে। তারপর জয়পুরহাট তালীমুল ইসলাম স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২০০৪ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পান। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিত বিভাগে সম্মান (অনার্স) শ্রেণীতে ভর্তি হন। ক্লাস ওয়ান থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত ফারুক কখনো দ্বিতীয় হননি।
সুফল বলেন, ‘সকাল নয়টার দিকে টেলিভিশনে ফারুকের মৃত্যুর খবর পাই। তারপর বাড়ি গিয়ে ফারুকের মাকে বলি, চাচি ফারুকের কোনো খবর পেয়েছেন? তখন পর্যন্ত তাঁরা কিছুই জানতে পারেননি। বেলা ১১টার দিকে তাঁরা মৃত্যু সম্পর্কে নিশ্চিত হন।’
ছোট মাঝিপাড়া উচ্চবিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক হযরত আলী জানান, ‘এ রকম একটি মেধাবী ছাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে খুন হবে, এটা ভাবা যায় না। দরিদ্র এই পরিবারটির এখন কী হবে, ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে।’
খবরের লিংক
9 February 2010
পাবনায় শিবিরের দুটি ছাত্রাবাসে আগুন
পাবনা অফিস | তারিখ: ১০-০২-২০১০
পাবনা শহরের রাধানগর ও শালগাড়ীয়া এলাকার ইসলামী ছাত্রশিবিরের দুটি ছাত্রাবাসে গতকাল মঙ্গলবার রাতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় একটি ছাত্রাবাস সম্পূর্ণ এবং অপরটি আংশিক ভস্মীভূত হয়েছে। ছাত্রাবাস দুটিতে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মীরা থাকতেন বলে শিবির ও এলাকাবাসী দাবি করেছে। গত সোমবার রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের ক্যাডারদের হামলায় ফারুক হোসেন (২৫) নামের ছাত্রলীগের একজন কর্মী নিহত হওয়ার পর এ ঘটনা ঘটল।
একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রাত সাড়ে নয়টার দিকে ৫০-৬০ জনের একদল যুবক লাঠিসোটা নিয়ে আচমকা রাধানগর এলাকার শিবিরের ছাত্রাবাস হিসেবে পরিচিত ‘ছাফিয়া ছাত্রাবাস’ এবং পাশের শালগাড়ীয়া এলাকার নাহার ছাত্রাবাসে হামলা চালায়। তারা ছাত্রাবাসের ছাত্রদের এলোপাতাড়ি মারধর করতে থাকে। এ সময় ছাত্ররা দৌড়ে পালিয়ে গেলে যুবকেরা ছাত্রাবাস দুটিতে আগুন লাগিয়ে চলে যায়।
পাবনার ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন লিডার সফিকুল ইসলাম জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে দমকল বাহিনীর একটি দল প্রথমে রাধানগরে যায়। প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টার পর ছাফিয়া ছাত্রাবাসের আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এরই মধ্যে ছাফিয়া ছাত্রাবাসের সাতটি কক্ষ পুরো ভস্মীভূত হয়। পরে দমকল বাহিনীর দল শালগাড়ীয়া এলাকায় গিয়ে নাহার ছাত্রাবাসের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। সেখানে শুধু কিছু বইখাতা পুড়েছে।
ছাত্রশিবিরের পাবনা শহর শাখার সভাপতি মো. সাইদুল ইসলাম জানান, ছাত্রাবাস দুটিতে শিবিরের কর্মীরা থাকতেন। ছাত্রলীগের কর্মীরা প্রতিশোধ নিতে ছাত্রদের মারধর করে ছাত্রাবাস দুটিতে আগুন দেন।
এ বিষয়ে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাক আহম্মেদ বলেন, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের ক্যাডারদের হামলায় ছাত্রলীগের কর্মী ফারুক হোসেনের হত্যার প্রতিবাদে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা রাতে পাবনা শহরে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে সভা করছিল। তখন সাধারণ শহরবাসীর মতোই ছাত্রাবাস দুটিতে আগুন লাগার খবর পাই আমরা।’ তিনি দাবি করেন, অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে ছাত্রলীগের কোনো যোগসূত্র নেই। ছাত্রলীগকে হেয় করতে শিবিরের নেতারা নিজেরাই ছাত্রাবাসে আগুন লাগিয়ে ছাত্রলীগকে দোষ দিচ্ছেন। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিয়ার রহমান বলেন, কে বা কারা আগুন লাগিয়েছে তা জানা যায়নি।
খবরের লিংক
পাবনা অফিস | তারিখ: ১০-০২-২০১০
পাবনা শহরের রাধানগর ও শালগাড়ীয়া এলাকার ইসলামী ছাত্রশিবিরের দুটি ছাত্রাবাসে গতকাল মঙ্গলবার রাতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় একটি ছাত্রাবাস সম্পূর্ণ এবং অপরটি আংশিক ভস্মীভূত হয়েছে। ছাত্রাবাস দুটিতে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মীরা থাকতেন বলে শিবির ও এলাকাবাসী দাবি করেছে। গত সোমবার রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের ক্যাডারদের হামলায় ফারুক হোসেন (২৫) নামের ছাত্রলীগের একজন কর্মী নিহত হওয়ার পর এ ঘটনা ঘটল।
একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রাত সাড়ে নয়টার দিকে ৫০-৬০ জনের একদল যুবক লাঠিসোটা নিয়ে আচমকা রাধানগর এলাকার শিবিরের ছাত্রাবাস হিসেবে পরিচিত ‘ছাফিয়া ছাত্রাবাস’ এবং পাশের শালগাড়ীয়া এলাকার নাহার ছাত্রাবাসে হামলা চালায়। তারা ছাত্রাবাসের ছাত্রদের এলোপাতাড়ি মারধর করতে থাকে। এ সময় ছাত্ররা দৌড়ে পালিয়ে গেলে যুবকেরা ছাত্রাবাস দুটিতে আগুন লাগিয়ে চলে যায়।
পাবনার ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন লিডার সফিকুল ইসলাম জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে দমকল বাহিনীর একটি দল প্রথমে রাধানগরে যায়। প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টার পর ছাফিয়া ছাত্রাবাসের আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এরই মধ্যে ছাফিয়া ছাত্রাবাসের সাতটি কক্ষ পুরো ভস্মীভূত হয়। পরে দমকল বাহিনীর দল শালগাড়ীয়া এলাকায় গিয়ে নাহার ছাত্রাবাসের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। সেখানে শুধু কিছু বইখাতা পুড়েছে।
ছাত্রশিবিরের পাবনা শহর শাখার সভাপতি মো. সাইদুল ইসলাম জানান, ছাত্রাবাস দুটিতে শিবিরের কর্মীরা থাকতেন। ছাত্রলীগের কর্মীরা প্রতিশোধ নিতে ছাত্রদের মারধর করে ছাত্রাবাস দুটিতে আগুন দেন।
এ বিষয়ে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাক আহম্মেদ বলেন, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের ক্যাডারদের হামলায় ছাত্রলীগের কর্মী ফারুক হোসেনের হত্যার প্রতিবাদে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা রাতে পাবনা শহরে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে সভা করছিল। তখন সাধারণ শহরবাসীর মতোই ছাত্রাবাস দুটিতে আগুন লাগার খবর পাই আমরা।’ তিনি দাবি করেন, অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে ছাত্রলীগের কোনো যোগসূত্র নেই। ছাত্রলীগকে হেয় করতে শিবিরের নেতারা নিজেরাই ছাত্রাবাসে আগুন লাগিয়ে ছাত্রলীগকে দোষ দিচ্ছেন। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিয়ার রহমান বলেন, কে বা কারা আগুন লাগিয়েছে তা জানা যায়নি।
খবরের লিংক
22 December 2009
আযিযুল হক কলেজে ছাত্রলীগ-শিবির সংঘর্ষে আরও ৫ জন গ্রেপ্তার
নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া | তারিখ: ২২-১২-২০০৯
বগুড়া সরকারি আযিযুল হক কলেজে ছাত্রলীগ ও ইসলামী ছাত্র শিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় গতকাল সোমবার রাতে আরও পাঁচ শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে ঘটনার দিন রোববার রাতে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গত রোববার কলেজে উভয় পক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ২২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ককটেল বিস্ফোরণ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। কর্তৃপক্ষ জরুরি বৈঠক করে ওই দিন থেকে কলেজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ সম্পর্কে আমার দেশ পত্রিকায় একটি খবর প্রকাশের প্রতিবাদে কলেজের ছাত্রলীগের কর্মীরা রোববার দুপুর ১২টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল করে। মিছিল শেষে তারা কলেজের মূল ভবনের সামনে জড়ো হয়ে আমার দেশ পত্রিকার একটি কপিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় ক্যাম্পাসে মিছিল করে ছাত্রশিবির। পাল্টাপাল্টি স্লোগানের একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এভাবেই উভয় পক্ষের মধ্যে কয়েক দফায় সংঘর্ষ হয়। এ সময় উভয়পক্ষ অন্তত অর্ধশত ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়।
খবরের লিংক
বগুড়া সরকারি আযিযুল হক কলেজে ছাত্রলীগ ও ইসলামী ছাত্র শিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় গতকাল সোমবার রাতে আরও পাঁচ শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে ঘটনার দিন রোববার রাতে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গত রোববার কলেজে উভয় পক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ২২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ককটেল বিস্ফোরণ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। কর্তৃপক্ষ জরুরি বৈঠক করে ওই দিন থেকে কলেজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ সম্পর্কে আমার দেশ পত্রিকায় একটি খবর প্রকাশের প্রতিবাদে কলেজের ছাত্রলীগের কর্মীরা রোববার দুপুর ১২টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল করে। মিছিল শেষে তারা কলেজের মূল ভবনের সামনে জড়ো হয়ে আমার দেশ পত্রিকার একটি কপিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় ক্যাম্পাসে মিছিল করে ছাত্রশিবির। পাল্টাপাল্টি স্লোগানের একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এভাবেই উভয় পক্ষের মধ্যে কয়েক দফায় সংঘর্ষ হয়। এ সময় উভয়পক্ষ অন্তত অর্ধশত ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়।
খবরের লিংক
সরকারি আযিযুল হক কলেজঃ সংঘর্ষের ঘটনায় শিবিরের ৯৮ নেতা-কর্মীর নামে মামলা, গ্রেপ্তার ২
নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া | তারিখ: ২২-১২-২০০৯
বগুড়ার সরকারি আযিযুল হক কলেজে ছাত্রলীগের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় ইসলামী ছাত্র শিবিরের ৯৮ জন নেতা-কর্মীসহ ২৪৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গত রোববার রাতে ওই মামলায় শহরের জামিল নগর এলাকা থেকে আনোয়ার হোসেন ও ইসমাইল হোসেন নামের দুই শিবির কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সংঘর্ষের পর কলেজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকলেও গতকাল সোমবার ক্যম্পাসে মিছিল ও সমাবেশ করেছেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।
বগুড়া সদর থানা সূত্র জানায়, রোববার রাতে শিবিরের ৯৮ জন নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ জনকে আসামি করে মামলা করে ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগের কলেজ শাখার আহ্বায়ক মাহমুদুন্নবী রাসেলের করা ওই মামলায় শিবিরের কলেজ শাখার সভাপতি মাহমুদুল হাসান, সাধারণ সম্পাদক মানিক মিয়া এবং সাবেক শিবির নেতা ও বর্তমান পৌর কাউন্সিলর এরশাদুল বারীকে আসামি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গতকাল সকাল থেকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা কলেজ চত্বরে অবস্থান নেন। তাঁরা দুপুর পর্যন্ত দুই দফা মিছিল ও সমাবেশ করেন। ক্যাম্পাস ও এর আশপাশের এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ ছাড়া শহরের জামিলনগর ও সবুজবাগ এলাকায় গতকাল বেশ কয়েকবার মহড়া দিয়েছেন শিবিরের নেতা-কর্মীরা।
বগুড়া সদর থানার ওসি জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, শিবিরের দুই কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কলেজ ক্যাম্পাস ও এর আশপাশে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় সম্পর্কে আমার দেশ পত্রিকায় একটি খবর প্রকাশের প্রতিবাদে রোববার কলেজ ছাত্রলীগের কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করলে শিবিরের সঙ্গে তাঁদের সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হন।
খবরের লিংক
বগুড়ার সরকারি আযিযুল হক কলেজে ছাত্রলীগের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় ইসলামী ছাত্র শিবিরের ৯৮ জন নেতা-কর্মীসহ ২৪৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গত রোববার রাতে ওই মামলায় শহরের জামিল নগর এলাকা থেকে আনোয়ার হোসেন ও ইসমাইল হোসেন নামের দুই শিবির কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সংঘর্ষের পর কলেজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকলেও গতকাল সোমবার ক্যম্পাসে মিছিল ও সমাবেশ করেছেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।
বগুড়া সদর থানা সূত্র জানায়, রোববার রাতে শিবিরের ৯৮ জন নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ জনকে আসামি করে মামলা করে ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগের কলেজ শাখার আহ্বায়ক মাহমুদুন্নবী রাসেলের করা ওই মামলায় শিবিরের কলেজ শাখার সভাপতি মাহমুদুল হাসান, সাধারণ সম্পাদক মানিক মিয়া এবং সাবেক শিবির নেতা ও বর্তমান পৌর কাউন্সিলর এরশাদুল বারীকে আসামি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গতকাল সকাল থেকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা কলেজ চত্বরে অবস্থান নেন। তাঁরা দুপুর পর্যন্ত দুই দফা মিছিল ও সমাবেশ করেন। ক্যাম্পাস ও এর আশপাশের এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ ছাড়া শহরের জামিলনগর ও সবুজবাগ এলাকায় গতকাল বেশ কয়েকবার মহড়া দিয়েছেন শিবিরের নেতা-কর্মীরা।
বগুড়া সদর থানার ওসি জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, শিবিরের দুই কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কলেজ ক্যাম্পাস ও এর আশপাশে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় সম্পর্কে আমার দেশ পত্রিকায় একটি খবর প্রকাশের প্রতিবাদে রোববার কলেজ ছাত্রলীগের কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করলে শিবিরের সঙ্গে তাঁদের সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হন।
খবরের লিংক
Subscribe to:
Posts (Atom)