নিজস্ব প্রতিবেদক | তারিখ: ২২-০৭-২০১০
পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে খুলনা, কুষ্টিয়া, যশোর ও সাতক্ষীরায় দায়ের করা পৃথক মামলায় জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের ১৭৩ জন নেতা-কর্মীর আগাম জামিন মঞ্জুর করেছেন হাইকোর্ট। গতকাল বুধবার হাইকোর্টের পৃথক দুটি বেঞ্চ পৃথক জামিন আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।
এদিকে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংস্কৃতিক সম্পাদক গোলাম মোর্তজা নিখোঁজ থাকার বিষয়ে গতকাল বিচারপতি আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা ও বিচারপতি কাজী রেজাউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বেঞ্চ রুল জারি করেন। রুলে গোলাম মোর্তজাকে বেআইনিভাবে আটক করে রাখা হয়নি, তা নিশ্চিত করতে কেন তাঁকে আদালতে হাজির করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাত দিনের মধ্যে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
রিট আবেদনে দাবি করা হয়, ১৪ জুলাই পল্টন থেকে ধানমন্ডিতে যাওয়ার পথে মোর্তজাকে পুলিশের পরিচয়ে সাদা পোশাকধারী লোকজন আটক করে। এর পর থেকে তাঁর সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁর অবস্থান জানতে নির্দেশনা চেয়ে মোর্তজার ভাই আবু কাউসার মোহাম্মদ শামসুজ্জামান হাইকোর্টে রিটটি (হেবিয়াস করপাস) করেন। গতকাল শুনানি শেষে আদালত রুল জারি করেন। আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী তাজুল ইসলাম।
আগাম জামিন: খুলনা, কুষ্টিয়া ও যশোরের জামায়াতের ১২২ জন নেতা-কর্মী আদালতে হাজির হয়ে আগাম জামিনের আবেদন করলে বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হক দুই মাসের জন্য তাঁদের আগাম জামিন দেন। একই সঙ্গে কেন তাঁদের স্থায়ী জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়। জামিন পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন কুষ্টিয়া শহর জামায়াতের আমির রফিকউদ্দিন আহমেদ, খুলনা মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম কুদ্দুস প্রমুখ।
জানা যায়, গত ২৯ জুন জামায়াতের শীর্ষস্থানীয় তিন নেতা নিজামী, মুজাহিদ ও সাঈদীকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে মিছিল করার সময় পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে তিন জেলায় পৃথক মামলা করা হয়।
পৃথক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি আফজাল হোসেন আহমেদ ও বিচারপতি মুহাম্মদ আবদুল হাফিজের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বেঞ্চ জামায়াতের সাবেক সাংসদ ও সাতক্ষীরা জেলা আমির মোহাদ্দেস আবদুল খালেকসহ জামায়াতের ৫১ জন নেতা-কর্মীর চার মাসের আগাম জামিন মঞ্জুর করেন। সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ১৬ জুলাই তাঁদের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা সদর থানায় এ মামলা হয়।
Showing posts with label কুষ্টিয়া. Show all posts
Showing posts with label কুষ্টিয়া. Show all posts
21 July 2010
5 July 2010
কুষ্টিয়ায় ছাত্রশিবিরের ১১ নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার
কুষ্টিয়া অফিস | তারিখ: ০৫-০৭-২০১০
কুষ্টিয়া শহরের কালীশংকরপুর এলাকার দুটি ছাত্রাবাস থেকে গতকাল রোববার ভোরে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ১১ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দুপুরে তাঁদের কুষ্টিয়ার মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতে হাজির করা হয়। আদালত জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিলে তাঁদের কুষ্টিয়া কারাগারে পাঠানো হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা হলেন—কুষ্টিয়া শহর ছাত্রশিবিরের সভাপতি মাজহারুল আলম, শামীম, হাসিবুল, সম্রাট, মিজানুর, সোহেল রানা, আনিসুর রহমান, এনামুল হক, হাসান, বকুল ও কাউসার আলী।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান বলেন, পুলিশের কাছে খবর ছিল জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষস্থানীয় তিন নেতাকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে জামায়াত-ঘোষিত গতকালের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা নাশকতার সৃষ্টি করতে পারেন।
কুষ্টিয়া অফিস | তারিখ: ০৫-০৭-২০১০
কুষ্টিয়া শহরের কালীশংকরপুর এলাকার দুটি ছাত্রাবাস থেকে গতকাল রোববার ভোরে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ১১ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দুপুরে তাঁদের কুষ্টিয়ার মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতে হাজির করা হয়। আদালত জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিলে তাঁদের কুষ্টিয়া কারাগারে পাঠানো হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা হলেন—কুষ্টিয়া শহর ছাত্রশিবিরের সভাপতি মাজহারুল আলম, শামীম, হাসিবুল, সম্রাট, মিজানুর, সোহেল রানা, আনিসুর রহমান, এনামুল হক, হাসান, বকুল ও কাউসার আলী।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান বলেন, পুলিশের কাছে খবর ছিল জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষস্থানীয় তিন নেতাকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে জামায়াত-ঘোষিত গতকালের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা নাশকতার সৃষ্টি করতে পারেন।
30 June 2010
কুষ্টিয়ায় জামায়াতের তিন নেতা গ্রেপ্তার, উদ্ধার চার হাতবোমা
নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া
কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমির সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল ওয়াহেদ, নায়েবে আমির ফরহাদ হোসেন ও ভেড়ামারা পৌর আমির হারুনার রশিদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁরা যেকোনো সময় নাশকতা সৃষ্টি করতে পারে এমন আশঙ্কায় তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কুষ্টিয়া সদর থানার ওসি আসাদুজ্জামান খান জানিয়েছেন, বুধবার সকালে কুষ্টিয়া শহরের হাউজিং এলাকার নিজ বাসা থেকে সদর থানা পুলিশ জেলা জামায়াতের আমির আবদুল ওয়াহেদ ও থানা মোড়ের বাসা থেকে নায়েবে আমির ফরহাদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে গভীর রাতে চারটি হাতবোমাসহ ভেড়ামারা উপজেলা জামায়াতের আমির হারুনার রশিদকে গ্রেপ্তার করে ভেড়ামারা থানা পুলিশ।
কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমির সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল ওয়াহেদ, নায়েবে আমির ফরহাদ হোসেন ও ভেড়ামারা পৌর আমির হারুনার রশিদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁরা যেকোনো সময় নাশকতা সৃষ্টি করতে পারে এমন আশঙ্কায় তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কুষ্টিয়া সদর থানার ওসি আসাদুজ্জামান খান জানিয়েছেন, বুধবার সকালে কুষ্টিয়া শহরের হাউজিং এলাকার নিজ বাসা থেকে সদর থানা পুলিশ জেলা জামায়াতের আমির আবদুল ওয়াহেদ ও থানা মোড়ের বাসা থেকে নায়েবে আমির ফরহাদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে গভীর রাতে চারটি হাতবোমাসহ ভেড়ামারা উপজেলা জামায়াতের আমির হারুনার রশিদকে গ্রেপ্তার করে ভেড়ামারা থানা পুলিশ।
24 February 2010
লাঠিসোটা নিয়ে মুজিবনগরে জামায়াতের বনভোজন!
মেহেরপুর প্রতিনিধি | তারিখ: ২৪-০২-২০১০
মেহেরপুরের ঐতিহাসিক মুজিবনগরে বনভোজনের নামে নাশকতা ও গোপন বৈঠক করার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। গতকাল মঙ্গলবার দলটির ২০০ নেতা-কর্মী মুজিবনগরের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক স্মৃতি মানচিত্রের সামনে জড়ো হন। এ সময় পুলিশ ও র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) সদস্যরা জামায়াতের নেতা-কর্মীদের সেখান থেকে হটিয়ে দেন।
পুলিশের দাবি, নাশকতা সৃষ্টির জন্য গোপন বৈঠক করতে দলটির প্রায় ২০০ নেতা-কর্মী গতকাল মুজিবনগরে জড়ো হন। তবে জামায়াতের নেতারা দাবি করেছেন, কোনো নাশকতা বা গোপন বৈঠকের উদ্দেশ্যে নয়, বনভোজনের জন্য দলের নেতা-কর্মীরা সেখানে জড়ো হয়েছিলেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর অভিযোগ, সকাল ১০টার দিকে বিভিন্ন দিক থেকে বিছিন্নভাবে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা মুজিবনগরে নির্মিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক স্মৃতি মানচিত্রের কাছে জড়ো হন। ৩০ মিনিটের মধ্যে প্রায় ২০০ নেতা-কর্মী সেখানে অবস্থান নেন। এঁদের অধিকাংশই মুজিবনগর উপজেলার মোনাখালী ইউনিয়ন জামায়াতের নেতা-কর্মী। অনেকের হাতে লাঠি ও ঘাড়ে কালো ব্যাগ ছিল। ওই স্থানে বনভোজনের কোনো আয়োজন প্রত্যক্ষদর্শীদের চোখে পড়েনি। ঐতিহাসিক মুজিবনগরে বনভোজনের নামে জামায়াতের জটলার বিষয়টি সবার মনে সন্দেহের দানা বাঁধে। স্থানীয় লোকজন পুলিশ ও র্যাবকে খবর দেন। পরে পুলিশ ও র্যাব ঘটনাস্থলে গিয়ে জামায়াতের নেতা-কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
মুজিবনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অভিযোগ ছিল কোনো নাশকতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে গোপন বৈঠকের জন্য জামায়াতের প্রায় ২০০ নেতা-কর্মী মুজিবনগরে জড়ো হয়েছেন।
জেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মোনাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক দাবি করেন, তাঁরা বনভোজনের উদ্দেশ্যে মুজিবনগরে জড়ো হয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশ বাধা দিলে তাঁরা মুজিবনগরের অদূরে কেদারগঞ্জের একটি বাগানে গিয়ে বনভোজন করেন। বনভোজন করতে প্রশাসনের অনুমতি নিয়েছিলেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের নেতা জানান, এ ব্যাপারে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। লাঠিসোঁটা নিয়ে কীভাবে বনভোজন হয়—এ প্রশ্নের জবাবে গোলাম ফারুক বলেন, ‘প্রত্যক্ষদর্শীদের এমন দাবি একেবারেই মিথ্যা।’
খবরের লিংক
মেহেরপুর প্রতিনিধি | তারিখ: ২৪-০২-২০১০
মেহেরপুরের ঐতিহাসিক মুজিবনগরে বনভোজনের নামে নাশকতা ও গোপন বৈঠক করার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। গতকাল মঙ্গলবার দলটির ২০০ নেতা-কর্মী মুজিবনগরের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক স্মৃতি মানচিত্রের সামনে জড়ো হন। এ সময় পুলিশ ও র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) সদস্যরা জামায়াতের নেতা-কর্মীদের সেখান থেকে হটিয়ে দেন।
পুলিশের দাবি, নাশকতা সৃষ্টির জন্য গোপন বৈঠক করতে দলটির প্রায় ২০০ নেতা-কর্মী গতকাল মুজিবনগরে জড়ো হন। তবে জামায়াতের নেতারা দাবি করেছেন, কোনো নাশকতা বা গোপন বৈঠকের উদ্দেশ্যে নয়, বনভোজনের জন্য দলের নেতা-কর্মীরা সেখানে জড়ো হয়েছিলেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর অভিযোগ, সকাল ১০টার দিকে বিভিন্ন দিক থেকে বিছিন্নভাবে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা মুজিবনগরে নির্মিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক স্মৃতি মানচিত্রের কাছে জড়ো হন। ৩০ মিনিটের মধ্যে প্রায় ২০০ নেতা-কর্মী সেখানে অবস্থান নেন। এঁদের অধিকাংশই মুজিবনগর উপজেলার মোনাখালী ইউনিয়ন জামায়াতের নেতা-কর্মী। অনেকের হাতে লাঠি ও ঘাড়ে কালো ব্যাগ ছিল। ওই স্থানে বনভোজনের কোনো আয়োজন প্রত্যক্ষদর্শীদের চোখে পড়েনি। ঐতিহাসিক মুজিবনগরে বনভোজনের নামে জামায়াতের জটলার বিষয়টি সবার মনে সন্দেহের দানা বাঁধে। স্থানীয় লোকজন পুলিশ ও র্যাবকে খবর দেন। পরে পুলিশ ও র্যাব ঘটনাস্থলে গিয়ে জামায়াতের নেতা-কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
মুজিবনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অভিযোগ ছিল কোনো নাশকতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে গোপন বৈঠকের জন্য জামায়াতের প্রায় ২০০ নেতা-কর্মী মুজিবনগরে জড়ো হয়েছেন।
জেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মোনাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক দাবি করেন, তাঁরা বনভোজনের উদ্দেশ্যে মুজিবনগরে জড়ো হয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশ বাধা দিলে তাঁরা মুজিবনগরের অদূরে কেদারগঞ্জের একটি বাগানে গিয়ে বনভোজন করেন। বনভোজন করতে প্রশাসনের অনুমতি নিয়েছিলেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের নেতা জানান, এ ব্যাপারে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। লাঠিসোঁটা নিয়ে কীভাবে বনভোজন হয়—এ প্রশ্নের জবাবে গোলাম ফারুক বলেন, ‘প্রত্যক্ষদর্শীদের এমন দাবি একেবারেই মিথ্যা।’
খবরের লিংক
16 January 2010
তিনটি সরকারি কলেজে ছাত্রলীগ-শিবির সংঘর্ষ
প্রথম আলো ডেস্ক | তারিখ: ১৬-০১-২০১০
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন স্নাতক (সম্মান) শ্রেণীর প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে গতকাল শুক্রবার তিনটি কলেজে ছাত্রলীগের সঙ্গে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে পুলিশ-সাংবাদিকসহ ৭২ জন আহত হয়েছেন। আটক করা হয়েছে ২৯ জনকে। আধিপত্য বিস্তার নিয়ে খুলনা বিএল কলেজ, দিনাজপুর সরকারি কলেজ ও মেহেরপুর সরকারি কলেজে এসব সংঘর্ষ হয়। দিনাজপুর কলেজে ক্লাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
খুলনা অফিস জানায়, বিএল কলেজে সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৫৪ জন আহত হন। ১৫ জনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানান, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিএল কলেজে স্নাতক শ্রেণীর ভর্তি পরীক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানাতে ছাত্রলীগ ও শিবির মিছিল বের করে। মিছিলে দুই পক্ষের কর্মীরা উসকানিমূলক স্লোগান দিতে থাকলে একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। উভয় দলের নেতা-কর্মীরা হকিস্টিক, রামদা, লোহার রড, পাইপ, লাঠি ও পিস্তল ব্যবহার করে। এ সময় গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটে বলে জানা গেছে।
দুপুর একটার দিকে পাঁচ প্লাটুন দাঙ্গা পুলিশ কলেজ চত্বরে ঢোকে। পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। একপর্যায়ে শিবিরের কর্মীরা পিছু হটে। দুপুর দুইটার দিকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা জড়ো হয়ে শিবিরের ব্যানার ও ফেস্টুনে আগুন ধরিয়ে দেন।
সাংবাদিকেরা ছবি তুলতে গেলে ছাত্রলীগের কর্মীরা হামলা চালান। প্রথম আলোর আলোকচিত্রী শাহনেওয়াজ, দিগন্ত টিভির ক্যামেরাম্যান মো. নয়ন, দেশ টিভির এস এম মিলন, বাংলাভিশনের মতিউর রহমান আহত হন। তাঁরা এনটিভির প্রতিনিধি আবু তৈয়েবকে আটকে রেখে ক্যামেরা থেকে ক্যাসেট বের করে নেন।
বিএল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক দোলন কুমার মিস্ত্রি অভিযোগ করেন, ‘ভর্তি পরীক্ষা শেষে শিবির মিছিল বের করে। কিন্তু তারা মাঠ ও সড়কগুলো এমনভাবে দখল করে রাখে, যাতে আমাদের মিছিল যাওয়ার পথ রুদ্ধ হয়ে যায়। এর প্রতিবাদ করলে তারা আমাদের ওপর হামলা চালায়। তারা ছাত্রলীগের কর্মীদের লক্ষ্য করে গুলিও ছোড়ে।’ তাঁর দাবি, সংঘর্ষে ছাত্রলীগের ২০ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।
ছাত্রশিবিরের কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, শিবিরের কর্মীরা শান্তিপূর্ণ মিছিল শেষে প্রশাসনিক ভবনের সামনে জড়ো হলে ছাত্রলীগ হামলা চালায়। এতে শিবিরের ৩০ জন নেতা-কর্মী আহত হন।
কলেজের অধ্যক্ষ আহমেদ রেজা প্রথম আলোকে বলেন, এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এ ঘটনায় কলেজ বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি করা যাবে না। শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্র দেখিয়ে ভেতরে ঢুকতে হবে। কলেজে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশের উপকমিশনার মোস্তফা কামাল বলেন, সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে ইটের আঘাতে মো. মামুন নামের একজন কনস্টেবল আহত হয়েছেন। মুহসীন হল থেকে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। তারা ছাত্র নাকি বহিরাগত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে।
দিনাজপুর অফিস জানায়, দিনাজপুর সরকারি কলেজে গতকাল ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষে কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছে। এ সময় কলেজের মুসলিম হোস্টেলের ৩০টি কক্ষ জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কর্তৃপক্ষ সম্মান ও স্নাতকোত্তর শ্রেণীর সব ক্লাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে। গতকাল সন্ধ্যা সাতটার মধ্যে ছাত্রদের এবং আজ সকাল ১০টার মধ্যে ছাত্রীদের হোস্টেল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কলেজে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানান, গতকাল কলেজে স্নাতক (সম্মান) শ্রেণীর ভর্তি পরীক্ষা শেষে দুপুর ১২টার দিকে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন পরীক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানাতে মিছিল বের করে। সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, ছাত্রশিবির মিছিল করার পর ছাত্রলীগ মিছিল বের করে। দুপুর একটার দিকে মিছিলটি কলেজের বাংলা বিভাগের সামনে শিবিরের প্রচারকেন্দ্র অতিক্রম করে বিজ্ঞান ভবনের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় শিবিরের কর্মীরা পেছন থেকে ছাত্রলীগের মিছিলে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে এবং লাঠি নিয়ে মিছিলটিকে ধাওয়া করে। এ সময় সংঘর্ষ বাধে।
মুসলিম হোস্টেল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জয়নুল দাবি করেন, সংঘর্ষে তাঁদের ১০ জন নেতা-কর্মী আহত হন। তা ছাড়া শিবিরের কর্মীরা মুসলিম হোস্টেলে নিজেদের ১৫টি কক্ষ ভাঙচুর করেছেন।
কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাইয়ুমের অভিযোগ, ছাত্রলীগের মিছিল থেকে শিবিরের প্রচারকেন্দ্রে থাকা নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়। ছাত্রলীগ মুসলিম হলে শিবিরের কর্মীদের ১৫টি কক্ষ ভাঙচুর করে বলে তিনি দাবি করেন।
দিনাজপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. আলাউদ্দিন মিয়া সংঘর্ষের ঘটনাকে দুঃখজনক আখ্যায়িত করে বলেন, একাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি সভায় সম্মান ও মাস্টার্সের ক্লাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কলেজ ক্যাম্পাসের বাইরে উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণীর ক্লাস হওয়ায় সেসব ক্লাস চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন সব পরীক্ষা পূর্বনির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি জানান।
দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম ইকবাল হাসান বলেন, বহিরাগতদের কলেজ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত না হওয়া পর্যন্ত পুলিশ থাকবে।
মেহেরপুর প্রতিনিধি জানান, মেহেরপুর সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগ ও শিবিরের মধ্যে গতকাল শহরের বিভিন্ন স্থানে দিনভর সংঘর্ষ হয়েছে। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে তিনজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। এ সময় জেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। হামলা চালানো হয় ছাত্রশিবিরের নিয়ন্ত্রিত দুটি ছাত্রাবাসে। এ ঘটনায় পুলিশ জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতিসহ তাদের ২৪ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকালে স্নাতক (সম্মান) শ্রেণীর ভর্তি পরীক্ষা চলছিল। পরীক্ষাকেন্দ্রে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ছাত্রলীগ ও শিবিরের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়। পরীক্ষা শেষে এর জের ধরে কলেজের বাইরে দুই সংগঠনের কর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
এ সময় কয়েকজন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে ছাত্রলীগের কর্মীরা তাঁদের ওপর হামলা চালান। এতে প্রথম আলোর মেহেরপুর প্রতিনিধি তুহিন আরণ্য, আমার দেশ-এর প্রতিনিধি পলাশ খন্দকার ও দৈনিক দেশতথ্য-এর ফটোসাংবাদিক মিজানুর রহমান আহত হন। তাঁরা সাংবাদিকদের ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে ভাঙচুর করেন। শিবিরকর্মীদের একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেন তাঁরা। সাংবাদিকদের উদ্ধার করতে গিয়ে ছাত্রলীগের সাবেক জেলা সভাপতি মফিজুর রহমানসহ আরও তিন নেতা সামান্য আহত হন।
একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে ম্যাজিস্ট্রেট অবিডিও মার্ডি উপস্থিত হলে পুলিশ শিবিরের জেলা সভাপতি ইকবাল হোসেনসহ ২৪ জন কর্মীকে আটক করে। তখন ছাত্রলীগের কর্মীরা অবস্থান পরিবর্তন করে মিছিল নিয়ে জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেন।
কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জানান, শিবিরের কর্মীরা সশস্ত্র অবস্থায় তাঁদের ওপর হামলা চালালে সংঘর্ষ বাধে। মেহেরপুর জেলা জামায়াতের আমির ছমির উদ্দিন বলেন, শিবিরের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথাকাটাকাটির জের ধরে ছাত্রলীগের কর্মীরা এ হামলা চালিয়েছেন।
খবরের লিংক
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন স্নাতক (সম্মান) শ্রেণীর প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে গতকাল শুক্রবার তিনটি কলেজে ছাত্রলীগের সঙ্গে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে পুলিশ-সাংবাদিকসহ ৭২ জন আহত হয়েছেন। আটক করা হয়েছে ২৯ জনকে। আধিপত্য বিস্তার নিয়ে খুলনা বিএল কলেজ, দিনাজপুর সরকারি কলেজ ও মেহেরপুর সরকারি কলেজে এসব সংঘর্ষ হয়। দিনাজপুর কলেজে ক্লাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
খুলনা অফিস জানায়, বিএল কলেজে সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৫৪ জন আহত হন। ১৫ জনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানান, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিএল কলেজে স্নাতক শ্রেণীর ভর্তি পরীক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানাতে ছাত্রলীগ ও শিবির মিছিল বের করে। মিছিলে দুই পক্ষের কর্মীরা উসকানিমূলক স্লোগান দিতে থাকলে একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। উভয় দলের নেতা-কর্মীরা হকিস্টিক, রামদা, লোহার রড, পাইপ, লাঠি ও পিস্তল ব্যবহার করে। এ সময় গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটে বলে জানা গেছে।
দুপুর একটার দিকে পাঁচ প্লাটুন দাঙ্গা পুলিশ কলেজ চত্বরে ঢোকে। পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। একপর্যায়ে শিবিরের কর্মীরা পিছু হটে। দুপুর দুইটার দিকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা জড়ো হয়ে শিবিরের ব্যানার ও ফেস্টুনে আগুন ধরিয়ে দেন।
সাংবাদিকেরা ছবি তুলতে গেলে ছাত্রলীগের কর্মীরা হামলা চালান। প্রথম আলোর আলোকচিত্রী শাহনেওয়াজ, দিগন্ত টিভির ক্যামেরাম্যান মো. নয়ন, দেশ টিভির এস এম মিলন, বাংলাভিশনের মতিউর রহমান আহত হন। তাঁরা এনটিভির প্রতিনিধি আবু তৈয়েবকে আটকে রেখে ক্যামেরা থেকে ক্যাসেট বের করে নেন।
বিএল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক দোলন কুমার মিস্ত্রি অভিযোগ করেন, ‘ভর্তি পরীক্ষা শেষে শিবির মিছিল বের করে। কিন্তু তারা মাঠ ও সড়কগুলো এমনভাবে দখল করে রাখে, যাতে আমাদের মিছিল যাওয়ার পথ রুদ্ধ হয়ে যায়। এর প্রতিবাদ করলে তারা আমাদের ওপর হামলা চালায়। তারা ছাত্রলীগের কর্মীদের লক্ষ্য করে গুলিও ছোড়ে।’ তাঁর দাবি, সংঘর্ষে ছাত্রলীগের ২০ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।
ছাত্রশিবিরের কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, শিবিরের কর্মীরা শান্তিপূর্ণ মিছিল শেষে প্রশাসনিক ভবনের সামনে জড়ো হলে ছাত্রলীগ হামলা চালায়। এতে শিবিরের ৩০ জন নেতা-কর্মী আহত হন।
কলেজের অধ্যক্ষ আহমেদ রেজা প্রথম আলোকে বলেন, এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এ ঘটনায় কলেজ বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি করা যাবে না। শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্র দেখিয়ে ভেতরে ঢুকতে হবে। কলেজে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশের উপকমিশনার মোস্তফা কামাল বলেন, সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে ইটের আঘাতে মো. মামুন নামের একজন কনস্টেবল আহত হয়েছেন। মুহসীন হল থেকে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। তারা ছাত্র নাকি বহিরাগত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে।
দিনাজপুর অফিস জানায়, দিনাজপুর সরকারি কলেজে গতকাল ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষে কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছে। এ সময় কলেজের মুসলিম হোস্টেলের ৩০টি কক্ষ জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কর্তৃপক্ষ সম্মান ও স্নাতকোত্তর শ্রেণীর সব ক্লাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে। গতকাল সন্ধ্যা সাতটার মধ্যে ছাত্রদের এবং আজ সকাল ১০টার মধ্যে ছাত্রীদের হোস্টেল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কলেজে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানান, গতকাল কলেজে স্নাতক (সম্মান) শ্রেণীর ভর্তি পরীক্ষা শেষে দুপুর ১২টার দিকে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন পরীক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানাতে মিছিল বের করে। সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, ছাত্রশিবির মিছিল করার পর ছাত্রলীগ মিছিল বের করে। দুপুর একটার দিকে মিছিলটি কলেজের বাংলা বিভাগের সামনে শিবিরের প্রচারকেন্দ্র অতিক্রম করে বিজ্ঞান ভবনের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় শিবিরের কর্মীরা পেছন থেকে ছাত্রলীগের মিছিলে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে এবং লাঠি নিয়ে মিছিলটিকে ধাওয়া করে। এ সময় সংঘর্ষ বাধে।
মুসলিম হোস্টেল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জয়নুল দাবি করেন, সংঘর্ষে তাঁদের ১০ জন নেতা-কর্মী আহত হন। তা ছাড়া শিবিরের কর্মীরা মুসলিম হোস্টেলে নিজেদের ১৫টি কক্ষ ভাঙচুর করেছেন।
কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাইয়ুমের অভিযোগ, ছাত্রলীগের মিছিল থেকে শিবিরের প্রচারকেন্দ্রে থাকা নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়। ছাত্রলীগ মুসলিম হলে শিবিরের কর্মীদের ১৫টি কক্ষ ভাঙচুর করে বলে তিনি দাবি করেন।
দিনাজপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. আলাউদ্দিন মিয়া সংঘর্ষের ঘটনাকে দুঃখজনক আখ্যায়িত করে বলেন, একাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি সভায় সম্মান ও মাস্টার্সের ক্লাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কলেজ ক্যাম্পাসের বাইরে উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণীর ক্লাস হওয়ায় সেসব ক্লাস চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন সব পরীক্ষা পূর্বনির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি জানান।
দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম ইকবাল হাসান বলেন, বহিরাগতদের কলেজ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত না হওয়া পর্যন্ত পুলিশ থাকবে।
মেহেরপুর প্রতিনিধি জানান, মেহেরপুর সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগ ও শিবিরের মধ্যে গতকাল শহরের বিভিন্ন স্থানে দিনভর সংঘর্ষ হয়েছে। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে তিনজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। এ সময় জেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। হামলা চালানো হয় ছাত্রশিবিরের নিয়ন্ত্রিত দুটি ছাত্রাবাসে। এ ঘটনায় পুলিশ জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতিসহ তাদের ২৪ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকালে স্নাতক (সম্মান) শ্রেণীর ভর্তি পরীক্ষা চলছিল। পরীক্ষাকেন্দ্রে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ছাত্রলীগ ও শিবিরের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়। পরীক্ষা শেষে এর জের ধরে কলেজের বাইরে দুই সংগঠনের কর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
এ সময় কয়েকজন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে ছাত্রলীগের কর্মীরা তাঁদের ওপর হামলা চালান। এতে প্রথম আলোর মেহেরপুর প্রতিনিধি তুহিন আরণ্য, আমার দেশ-এর প্রতিনিধি পলাশ খন্দকার ও দৈনিক দেশতথ্য-এর ফটোসাংবাদিক মিজানুর রহমান আহত হন। তাঁরা সাংবাদিকদের ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে ভাঙচুর করেন। শিবিরকর্মীদের একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেন তাঁরা। সাংবাদিকদের উদ্ধার করতে গিয়ে ছাত্রলীগের সাবেক জেলা সভাপতি মফিজুর রহমানসহ আরও তিন নেতা সামান্য আহত হন।
একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে ম্যাজিস্ট্রেট অবিডিও মার্ডি উপস্থিত হলে পুলিশ শিবিরের জেলা সভাপতি ইকবাল হোসেনসহ ২৪ জন কর্মীকে আটক করে। তখন ছাত্রলীগের কর্মীরা অবস্থান পরিবর্তন করে মিছিল নিয়ে জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেন।
কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জানান, শিবিরের কর্মীরা সশস্ত্র অবস্থায় তাঁদের ওপর হামলা চালালে সংঘর্ষ বাধে। মেহেরপুর জেলা জামায়াতের আমির ছমির উদ্দিন বলেন, শিবিরের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথাকাটাকাটির জের ধরে ছাত্রলীগের কর্মীরা এ হামলা চালিয়েছেন।
খবরের লিংক
15 January 2010
মেহেরপুরে ছাত্রলীগ-শিবির সংঘর্ষে তিন সাংবাদিকসহ আহত ৬
মেহেরপুর প্রতিনিধি | তারিখ: ১৫-০১-২০১০
মেহেরপুর সরকারি কলেজে অনার্স ভর্তি পরীক্ষার সময় ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রশিবিরের সঙ্গে ছাত্রলীগের সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজন সাংবাদিকসহ ছয়জন আহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার বেলা একটার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, আজ মেহেরপুর সরকারি কলেজে প্রথম বর্ষের অনার্স ভর্তি পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষার সময় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে কলেজে ছাত্রলীগ ও শিবিরের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে পরীক্ষা শেষে কলেজের বাইরে ছাত্রশিবির ও ছাত্রলীগের কর্মীরা বিরোধে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় ছাত্রলীগের কর্মীদের ধাওয়া খেয়ে শিবির কর্মীরা কলেজের পাশে স্বপ্নায়ন নামের শিবিরের ছাত্রাবাসে অবস্থান নেয়। সেখান থেকে শিবির কর্মীরা ছাত্রলীগের কর্মীদের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। একপর্যায়ে ছাত্রলীগের কর্মীরা ছাত্রাবাস ঘিরে ফেলে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে ছাত্রলীগের কর্মীরা তাঁদের ওপরও চড়াও হয়।
এ সময় সংঘর্ষের সংবাদ সংগ্রহকালে ছাত্রলীগের কর্মীদের হামলায় প্রথম আলোর মেহেরপুর প্রতিনিধি তুহিন আরন্য, আমার দেশ-এর প্রতিনিধি পলাশ খন্দকার ও দৈনিক দেশতথ্য পত্রিকার ফটোসাংবাদিক মিজানুর রহমান আহত হয়েছেন। সাংবাদিকদের উদ্ধার করতে গিয়ে ছাত্রলীগের সাবেক জেলা সভাপতি মফিজুর রহমানসহ তিনজন ছাত্রলীগের নেতাও আহত হয়েছেন।
পুলিশ ছাত্রশিবিরের ছাত্রাবাস থেকে জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইকবাল হোসেনসহ ২৪ শিবির কর্মীকে আটক করেছে।
একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে ম্যাজিস্ট্রেট অবিডিও মার্ডি উপস্থিত হন। এ সময় ছাত্রলীগের কর্মীরা অবস্থান পরিবর্তন করে মিছিল নিয়ে জেলা জামায়াতের অফিসে হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।
জেলা যুবলীগের সভাপতি সাজ্জাদুল আনাম এবং মেহেরপুর সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জানান, শিবির কর্মীরা সশস্ত্র অবস্থায় তাঁদের ওপর হামলা চালালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শিবির কর্মীদের হাতে পিস্তল ছিল বলে ছাত্রলীগের নেতারা অভিযোগ করেছেন।
মেহেরপুর জেলা জামায়াতের আমির ছমিরউদ্দিন বলেন, কথাকাটাকাটিকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের কর্মীরা এ হামলা চালিয়েছে। ছাত্রলীগের কর্মীরা জেলা জামায়াতের অফিসের কম্পিউটার, তিনটি মোটরসাইকেলসহ মূল্যবান সামগ্রী ভাঙচুর করে অফিসে আগুন ধরিয়ে দেয়।
মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম জানান, পুলিশ স্বপ্নায়ন নামের শিবিরের ছাত্রাবাস থেকে কম্পিউটার সামগ্রীসহ লোহার রড জব্দ করেছে।
সাংবাদিক আহত হওয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে মেহেরপুর প্রেসক্লাব।
খবরের লিংক
মেহেরপুর প্রতিনিধি | তারিখ: ১৫-০১-২০১০
মেহেরপুর সরকারি কলেজে অনার্স ভর্তি পরীক্ষার সময় ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রশিবিরের সঙ্গে ছাত্রলীগের সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজন সাংবাদিকসহ ছয়জন আহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার বেলা একটার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, আজ মেহেরপুর সরকারি কলেজে প্রথম বর্ষের অনার্স ভর্তি পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষার সময় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে কলেজে ছাত্রলীগ ও শিবিরের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে পরীক্ষা শেষে কলেজের বাইরে ছাত্রশিবির ও ছাত্রলীগের কর্মীরা বিরোধে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় ছাত্রলীগের কর্মীদের ধাওয়া খেয়ে শিবির কর্মীরা কলেজের পাশে স্বপ্নায়ন নামের শিবিরের ছাত্রাবাসে অবস্থান নেয়। সেখান থেকে শিবির কর্মীরা ছাত্রলীগের কর্মীদের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। একপর্যায়ে ছাত্রলীগের কর্মীরা ছাত্রাবাস ঘিরে ফেলে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে ছাত্রলীগের কর্মীরা তাঁদের ওপরও চড়াও হয়।
এ সময় সংঘর্ষের সংবাদ সংগ্রহকালে ছাত্রলীগের কর্মীদের হামলায় প্রথম আলোর মেহেরপুর প্রতিনিধি তুহিন আরন্য, আমার দেশ-এর প্রতিনিধি পলাশ খন্দকার ও দৈনিক দেশতথ্য পত্রিকার ফটোসাংবাদিক মিজানুর রহমান আহত হয়েছেন। সাংবাদিকদের উদ্ধার করতে গিয়ে ছাত্রলীগের সাবেক জেলা সভাপতি মফিজুর রহমানসহ তিনজন ছাত্রলীগের নেতাও আহত হয়েছেন।
পুলিশ ছাত্রশিবিরের ছাত্রাবাস থেকে জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইকবাল হোসেনসহ ২৪ শিবির কর্মীকে আটক করেছে।
একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে ম্যাজিস্ট্রেট অবিডিও মার্ডি উপস্থিত হন। এ সময় ছাত্রলীগের কর্মীরা অবস্থান পরিবর্তন করে মিছিল নিয়ে জেলা জামায়াতের অফিসে হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।
জেলা যুবলীগের সভাপতি সাজ্জাদুল আনাম এবং মেহেরপুর সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জানান, শিবির কর্মীরা সশস্ত্র অবস্থায় তাঁদের ওপর হামলা চালালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শিবির কর্মীদের হাতে পিস্তল ছিল বলে ছাত্রলীগের নেতারা অভিযোগ করেছেন।
মেহেরপুর জেলা জামায়াতের আমির ছমিরউদ্দিন বলেন, কথাকাটাকাটিকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের কর্মীরা এ হামলা চালিয়েছে। ছাত্রলীগের কর্মীরা জেলা জামায়াতের অফিসের কম্পিউটার, তিনটি মোটরসাইকেলসহ মূল্যবান সামগ্রী ভাঙচুর করে অফিসে আগুন ধরিয়ে দেয়।
মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম জানান, পুলিশ স্বপ্নায়ন নামের শিবিরের ছাত্রাবাস থেকে কম্পিউটার সামগ্রীসহ লোহার রড জব্দ করেছে।
সাংবাদিক আহত হওয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে মেহেরপুর প্রেসক্লাব।
খবরের লিংক
Subscribe to:
Posts (Atom)