নিজস্ব প্রতিবেদক | তারিখ: ১৯-০২-২০১০
মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে দেরি করলেও যুদ্ধাপরাধী জামায়াত-শিবির চক্র বসে নেই। তারা ১৯৭১ সালের মতো একই কায়দায় রগ কেটে মানুষকে হত্যা করছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে যত দেরি হবে, ততই এ ধরনের অরাজকতা বাড়তে থাকবে। তাই সরকারকে দ্রুত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার-প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রতিবাদ সভায় বক্তারা সরকারের কাছে এ আহ্বান জানান। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করতে জামায়াত-শিবিরের পরিকল্পিত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম, মুক্তিযুদ্ধ ’৭১ ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট যৌথভাবে এ প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে।
সভায় বক্তারা বলেন, সরকার মার্চের প্রথম সপ্তাহে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। জনগণ ও সরকারের দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে নিতে যুদ্ধাপরাধীরা পরিকল্পিতভাবে রাজশাহী, চট্টগ্রাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারীরা সংঘবদ্ধ হয়ে রগকাটা ও অস্ত্রের ব্যবহার শুরু করেছে।
সভার সভাপতি পরিকল্পনামন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) এ কে খন্দকার বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয়ে সচেতন। তাই সরকার শিগগিরই এ বিচার-প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে।’
সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সভাপতি এ কে খন্দকার আরও বলেন, সরকারের প্রথম সংসদ অধিবেশনের প্রথম পাস হওয়া প্রস্তাব ছিল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা। বাজেটে এ খাতে টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। আইন সংশোধন করা হয়েছে। বিচারের জন্য জায়গা নির্বাচনের কাজ চলছে। তবে এক বছরের বেশি সময় পার হয়ে গেছে। তাই সাধারণ জনগণের দাবি, এ বিষয়ে আর দেরি করা যাবে না, দ্রুত বিচারকাজ শেষ করতে হবে।
আলোচনায় ফোরামের নেতা মেজর জেনারেল (অব.) কে এম সফিউল্লাহ ধর্মভিত্তিক ছাত্ররাজনীতি প্রতিহত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া ঘটনার জন্য তিনি জামায়াত নেতা নিজামীকে দায়ী করে তাঁকে আইনের আওতায় আনারও আহ্বান জানান।
ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মেজর জেনারেল (অব.) হারুন-অর-রশীদ বলেন, জামায়াত-শিবির আর একজন স্বাধীনতাকামী মানুষ হত্যা করলে মুক্তিযোদ্ধারা আবার গর্জে উঠবে। তিনি এই চক্রকে রুখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ডা. সারওয়ার আলী বলেন, ইসলাম ও ধর্মের নামে যারা মানুষ হত্যা করছে, তারা শুধু জাতি নয়, ধর্মেরও কলঙ্ক।
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি নাসির উদ্দীন ইউসুফ বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের কার কী অপরাধ, তা চিহ্নিত করে জনগণকে জানাতে হবে। তাই আগে তদন্ত কমিশন গঠন করতে হবে, পরে বিচারের জন্য ভবন ঠিক করতে হবে। তিনি জঙ্গি সংগঠনের তালিকা করে আইনের আওতায় আনারও আহ্বান জানান।
সম্মিলিত নাগরিক আন্দোলনের সমন্বয়কারী গোলাম কুদ্দুছ জামায়াত-শিবির চক্রের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি জানান।
প্রতিবাদ সভায় একাত্মতা প্রকাশ করে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন সেক্টর কমান্ডার সি আর দত্ত, পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (আইজি) নুরুল আলম, নাট্যব্যক্তিত্ব ম হামিদ, রাষ্ট্রদূত আনোয়ারুল আলম, সাংবাদিক হারুন হাবিব প্রমুখ।
খবরের লিংক
No comments:
Post a Comment
মন্তব্য করুন